নজিরবিহীন নৃশংসতা ও নৈরাজ্যের বিস্তার বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক তার বিবৃতিতে বলেন, আইয়ামে জাহেলিয়াতের কালেও এ রকম নৃশংসতার বিষয় জানা যায় না। এসব ঘটনা দেশের মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে এবং মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তিনি মনে করেন, রাজবাড়িতে ক'মাস আগে কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার না হওয়ার কারণেই দেশজুড়ে খুনিরা উৎসাহিত হচ্ছে এবং মব সন্ত্রাস বা গণ-উন্মত্ততা ছড়িয়ে পড়ছে।
অন্যান্য নৃশংসতার উদাহরণ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে তালা দিয়ে বিএনপি নেতার ঘরে আগুন এবং সেই আগুনে পুড়ে শিশু কন্যার মৃত্যুও নৃশংসতার আরেকটি উদাহরণ তৈরি করেছে। এই ধরনের ঘটনাগুলো দেশের সামগ্রিক সামাজিক পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে।
সরকার ও প্রশাসনের অকার্যকারিতা সাইফুল হক সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার ও প্রশাসনের অকার্যকারিতার কারণে দেশজুড়ে মারাত্মকভাবে নৈরাজ্যের বিস্তার ঘটছে। তিনি জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবন, ছায়ানট ও উদীচীতে আগুনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রমাণ করেন যে, দেশে এখন মানুষের জানমাল ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধানের কেউ নেই।
বিশেষ গোষ্ঠীর মদদ ও বিচার দাবি তিনি ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করেন যে, সরকারের মধ্যকার বা তাদের ছত্রছায়ায় থাকা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর মদদ ছাড়া এ ধরনের রোমহষর্ক ঘটনা সংঘটিত হতে পারে না। তার মতে, সরকারের কোনো না কোনো অংশ এসব অপতৎপরতা ঘটতে দিচ্ছে। এসব ব্যাপারে সরকারের খোলামেলা কথা বলা উচিত। তিনি অবিলম্বে সাম্প্রতিককালের সকল নজিরবিহীন নৃশংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসাথে তিনি এসব রাজনৈতিক ও সামাজিক অনাচার ও অপরাধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করারও আহবান জানান।