কর্মসূচি ও দাবির বিস্তারিত
ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষণা অনুযায়ী, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে সোমবার দুপুর ১২টায় শাহবাগে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর একই দিন বিকেল ৩টার দিকে শাহবাগ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে এ বিক্ষোভ মিছিল হবে।
দাবি মানা না হওয়ার অভিযোগ
রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পেজ থেকে জানায় যে, ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে ও উচ্চকিত সম্মতিতে ঘোষিত তাদের দুই দফা দাবির এক দফাও মানা হয়নি। তাদের দাবি ছিল— স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সহ-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং সিভিল-মিলিটারি গোয়েন্দা সংস্থার উপর প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপনপূর্বক সেসব সংস্থা থেকে 'হাসিনার চরদের' গ্রেপ্তার করতে হবে।
পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন
ইনকিলাব মঞ্চ অভিযোগ করে বলেছে, অ্যাডিশনাল আইজিপিকে দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনাকে তুচ্ছ ও অগুরুত্বপূর্ণ দেখানো হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই তারা ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানায়, “খুনিকে দ্রুত জীবিত গ্রেপ্তার চাই, বন্দুকযুদ্ধের কোনো নাটক দেখতে চাই না”। এটি স্পষ্টতই খুনি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা এনকাউন্টারের মাধ্যমে মৃত্যুকে এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পটভূমি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন, যা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।