দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তার এই বহুপ্রতিক্ষিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সেই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিলল আনুষ্ঠানিক ‘Security Clearance’ বা সবুজ সংকেত। বিএনপিকে এই সংবর্ধনা সভা আয়োজনের জন্য লিখিত অনুমতি প্রদান করেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।
নয়াপল্টনে পৌঁছাল অনুমতির চিঠি
রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর পক্ষ থেকে পাঠানো অনুমতিপত্রটি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছায়। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্টাফ জাহিদ হোসেন স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে এই চিঠি পৌঁছে দেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (দফতর দায়িত্বে) সাত্তার পাটোয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিটি গ্রহণ করেন।
উজ্জীবিত তৃণমূল, চলছে ‘Logistics’ ও নিরাপত্তা সমন্বয়
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ‘Senior Leadership’ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ‘Political Landscape’-এ তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিতি দলের জন্য একটি বড় ‘Turning Point’ হতে যাচ্ছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে দলের পক্ষ থেকে বিশাল এক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গঠন করা হয়েছে। একইসাথে জননিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে প্রয়োজনীয় ‘Coordination’ বা সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।
২৫ ডিসেম্বরের কর্মসূচি: ঐতিহাসিক এক মাহেন্দ্রক্ষণ
আগামী বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) বিমানবন্দর থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট সমাবেশস্থল পর্যন্ত লাখো মানুষের ঢল নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগের প্রতিফলন। সংবর্ধনার প্রতিটি ধাপ যাতে যথাযথ ‘Protocol’ মেনে সম্পন্ন হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে দলের হাই কমান্ড।
প্রশাসনের এই অনুমতির পর এখন সংবর্ধনাস্থলের সাজসজ্জা এবং প্রচার-প্রচারণার কাজে নতুন গতি এসেছে। উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালে দেশত্যাগের পর এই প্রথম প্রকাশ্য জনসমক্ষে দেশের মাটিতে ফিরছেন তারেক রহমান, যা নিয়ে কেবল রাজনৈতিক মহলে নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।