• আন্তর্জাতিক
  • কৃষ্ণ সাগরে রণদামামা: রুশ বন্দরে ইউক্রেনের বিধ্বংসী ড্রোন হামলা, বিধ্বস্ত জাহাজ ও জেটি

কৃষ্ণ সাগরে রণদামামা: রুশ বন্দরে ইউক্রেনের বিধ্বংসী ড্রোন হামলা, বিধ্বস্ত জাহাজ ও জেটি

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
কৃষ্ণ সাগরে রণদামামা: রুশ বন্দরে ইউক্রেনের বিধ্বংসী ড্রোন হামলা, বিধ্বস্ত জাহাজ ও জেটি

ক্রাস্নোদার অঞ্চলের ভোলনা টার্মিনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; ১ হাজার ৫০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা, সরানো হয়েছে নাবিকদের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ এবার নতুন মাত্রা পেল কৃষ্ণ সাগরের কৌশলগত উপকূলে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাশিয়ার ক্রাস্নোদার অঞ্চলের ভোলনা বন্দরে ইউক্রেনের একঝাঁক ড্রোন আঘাত হেনেছে। এই বিধ্বংসী Drone Attack-এ রাশিয়ার দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং দুটি জেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পরপরই পুরো বন্দর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে রুশ অগ্নিনির্বাপক বাহিনী।

ভোলনা টার্মিনালে ধ্বংসযজ্ঞ ও উদ্ধার অভিযান

আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোলনা টার্মিনালে নোঙর করে থাকা জাহাজ দুটি লক্ষ্য করে ড্রোনগুলো আঘাত হানে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে বন্দরের প্রায় ১ হাজার ৫০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। বন্দরে অবস্থানরত নাবিক ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজ দুটি থেকে সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, তবে বন্দরের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত বন্দরের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

কৌশলগত গুরুত্ব ও ক্রাইমিয়া সেতুর নিরাপত্তা ঝুঁকি

ভোলনা এলাকাটি রাশিয়ার সামরিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত ‘Strategic’ এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এটি সরাসরি কের্চ প্রণালীর কাছে এবং ক্রাইমিয়া সেতুর অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। উল্লেখ্য, এই ক্রাইমিয়া সেতুটি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সাথে যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্রাইমিয়ার সংযোগ স্থাপন করে এবং রুশ বাহিনীর জন্য ‘Military Logistics’ বা রসদ সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলে হামলা চালিয়ে ইউক্রেন মূলত রাশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) ব্যাহত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

লক্ষ্য যখন জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানি কেন্দ্র

রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিতভাবে ক্রাস্নোদার অঞ্চলের তেল শোধনাগার, বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলটি রাশিয়ার ‘Energy Export’ বা জ্বালানি রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ইউক্রেনের এই ধারাবাহিক ড্রোন হামলার প্রধান উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ও সামরিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই পর্যায়ে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দুপক্ষের জন্যই বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে সুরক্ষিত বন্দরে এমন নির্ভুল হামলা ইউক্রেনের ‘Intelligence’ এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে প্রকাশ করছে। এই হামলার ফলে কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে উত্তজনা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল, যা বিশ্ব বাজারের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।