সকাল থেকে আয়োজন, কয়েক স্তরের নিরাপত্তা রাজধানীর পূর্বাচলে তিনশ ফিট সড়কের কুলির মোড় থেকে বেশ খানিকটা দূরে সড়কের উত্তর অংশে বাঁশের মঞ্চ বানানো হচ্ছে। দক্ষিণমুখী মঞ্চে বসানো হয়েছে কাঠের পাটাতন।
মঞ্চের দুই পাশে তাবু স্থাপন করা হয়েছে— যেখানে আপাতত ডেকোরেটরের সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। রাস্তার ল্যাম্প পোস্টে লাগানো হচ্ছে মাইক।
সোমবার বিকালে মঞ্চের আশেপাশে উৎসুক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে আছেন। কেউ কাজের তদারকি করছেন, আর কারোবা সাংগঠনিক কাজে মনোযোগ। দলটির সিনিয়র নেতারাও আসছেন, কাজের অগ্রগতি দেখছেন।
বিকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন মঞ্চের কাছে।
প্রস্তুতি সম্পর্কে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘আমাদের এখানে যারা ডেকোরেটরের কাজ করছেন… মাইক লাগানো হচ্ছে। নিরাপত্তার বিষয়টা আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘সবকিছু তো আমাদের হাতে নাই। আমাদের ছেলেরা রাউন্ড দ্য ক্লক এখানে আছে, কাজ করছে। যাদের দায়িত্ব স্টেজ বানানো, মাইকের কাজ এগুলো চলছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে পুরো জাতি একটা শঙ্কা মধ্যে আছে, প্রতিটা মুহূর্তেই। নিরাপত্তা যতটুকু এনসিওর করা দরকার, আমরা চেষ্টা করছি। বাকিটা আল্লাহর হাতে। সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা নাই।’’
আব্বাস বলেন, ‘‘লাখো মানুষের সমাগমের পরিকল্পনা আমরা করি নাই। যদি লাখো মানুষ সমাবেত হয়ে যায়, সেটা তো আমাদের কিছু করার নাই। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসবেন। দেশে মানুষের মধ্যে একটা জাগরণ তো আছে। সে জাগরণের প্রতিফলন এখানে ঘটবে। এটা আমরা আশা করি।’’
পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সোমবার অন্তত ৩০ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনের পুলিশ ইন্সপেক্টর টি এম আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। তবে এটা রেগুলার চেকপোস্ট— যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও ঘটনা না ঘটে। এখানের অবস্থা ভালো। গাড়ি আসতেছে তাদের চেক করা হচ্ছে।’’
দলের একজন সিনিয়র দায়িত্বশীল জানান, আপাতত ধারণা করছেন— বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে পৌঁছে অভ্যর্থনা মঞ্চে যেতে পারেন। সেখান থেকে তিনি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।
আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘‘তিনশ ফিটে সংবর্ধনা হবে। সেখানে নানা আয়োজন থাকবে বলে আশা করছি। পুরো শিডিউল নির্ধারণ হলে জানাতে পারবো।’’
সূত্র জানিয়েছে, সরকারি ও দলীয় মিলিয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মূল মঞ্চ, গণমাধ্যমের কর্মীরা নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন।