সান্তোসের জার্সিতে এই মৌসুমের শেষ ভাগে নেইমার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। বার্সেলোনা, পিএসজি ও আল-হিলাল অধ্যায়ের পর শৈশবের ক্লাবে ফিরে তিনি প্রমাণ করেছেন, এখনও তাঁর জাদু ফুরিয়ে যায়নি। সংকটের মুহূর্তে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দলের পক্ষে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন, যেমনটা তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশিত।
ব্রাজিল ও আনচেলত্তিকে বার্তা
ক্লাবের লক্ষ্য পূরণ হলেও নেইমারের ব্যক্তিগত লক্ষ্য আরও বড়। তাঁর প্রধান স্বপ্ন হলো ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা। সাও পাওলোতে এক অনুষ্ঠানে গায়ক থিয়াগুইনহোর সঙ্গে উপস্থিত হয়ে নেইমার তাঁর আত্মবিশ্বাসী বার্তা শোনান। তিনি বলেন, “এই বিশ্বকাপ ব্রাজিলে ফেরাতে আমরা সবকিছু করব—প্রয়োজনে অসম্ভবও। ফাইনালে উঠলে আমি গোল করব, এটা আমার প্রতিশ্রুতি।” একই সঙ্গে ব্রাজিল জাতীয় দলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির উদ্দেশে তাঁর সরাসরি বার্তা, “আমাদের সাহায্য করুন, আনচেলত্তি!”
আনচেলত্তির দলে নেইমার
এখনও পর্যন্ত ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির ডাক পাননি নেইমার। বিষয়টি নিয়ে সমর্থক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে আলোচনা চললেও, এই অনুপস্থিতি তাঁকে দমাতে পারেনি। তবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে নেইমারকে ধারাবাহিক ম্যাচ খেলা, উচ্চমানের প্রতিযোগিতা এবং সর্বোচ্চ চাপের পরিবেশে থাকতে হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
সান্তোস বনাম ফ্ল্যামেঙ্গো: নতুন ক্লাবের জল্পনা
অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—সান্তোস কি নেইমারের জন্য এক ধাপ পিছিয়ে যাওয়া? কারণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ভালো হলেও দলটির প্রতিযোগিতামূলক মান ও আন্তর্জাতিক চাপ সীমিত। ফলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য তাঁর নতুন ক্লাব খোঁজার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটেই উঠে আসছে ফ্ল্যামেঙ্গোর নাম। কোপা লিবার্তাদোরেস ও ব্রাজিলেইরাও জেতা ক্লাবটিতে যোগ দিলে নেইমার পেতে পারেন দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের লড়াই, যা তাঁর বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হতে পারে।
চোট থেকে ফেরা ও ভবিষ্যৎ
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের শেষ ম্যাচটি ছিল ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেই ম্যাচে মারাত্মক হাঁটুর চোট—এসিএল (ACL) ও মেনিসকাস ছিঁড়ে—দীর্ঘ সময়ের জন্য তাঁকে মাঠের বাইরে ছিটকে দিয়েছিল। এখন তিনি সুস্থ এবং নিয়মিত খেলছেন। সামনে কোন ক্লাব, কোন পরিবেশ বেছে নেবেন—এই সিদ্ধান্তই ঠিক করে দেবে, ইতিহাসের সঙ্গে নেইমারের আরেকটি শেষ বড় সাক্ষাৎ আদৌ সম্ভব হবে কি না।