শীত বাড়লে শরীরের রক্তনালীগুলো তাপ ধরে রাখার জন্য সংকুচিত হয়। এর ফলে হাত-পা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, রক্তপ্রবাহ কমার কারণেই পেশি শক্ত হয়ে ওঠে এবং ব্যথা বাড়ে।
কেন শীতে বাড়ে এই ব্যথা?
জয়েন্টের ভেতরে থাকা সিনোভিয়াল ফ্লুইড বা লুব্রিকেন্ট ঠান্ডায় আরও বেশি ঘন হয়ে যায়। এর ফলে জয়েন্টের নড়াচড়া কমে যায় এবং হাঁটু, কোমর, আঙুল বা কাঁধে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এছাড়াও, ঠান্ডায় পেশির ওপর চাপ বাড়ে এবং স্নায়ুগুলো ব্যথার সিগন্যাল আরও তীব্রভাবে মস্তিষ্কে পাঠায়। যাদের আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস (আর্থ্রাইটিস), গেঁটেবাত বা নিউরোলজিক্যাল সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যথা দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ব্যথা নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রধান কৌশল হলো শরীরকে গরম রাখা। মোজা, গ্লাভস, থার্মাল পোশাক ও মাথা ঢেকে রাখলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং ব্যথা কমতে শুরু করে।
- গরম সেক: ঘরে নিরাপদ দূরত্বে হিটার ব্যবহার করা অথবা গরম পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান বা হাত-পায়ে সেক দেওয়া বেশ কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
- হালকা ব্যায়াম: প্রতিদিন ১০–২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করলে রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং জয়েন্টের লুব্রিকেন্ট স্বাভাবিক হয়।
- পর্যাপ্ত জল: শীতে অনেকে জল কম পান করেন। কিন্তু শরীরে জলের অভাব ঘটলে পেশি শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়তে পারে, তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা জরুরি।
খাদ্যাভ্যাস এবং ঔষধের ভূমিকা
সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। মাছ, ডিম, কলা, বাদাম, ফ্ল্যাক্সসিড (Flaxseed) জাতীয় খাবার এবং অল্প সময়ের জন্য সূর্যের আলোয় থাকা জয়েন্টকে নমনীয় রাখতে সহায়তা করে।
ব্যথা অসহনীয় হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল অথবা ইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) বা ন্যাপ্রক্সেন (Naproxen) ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দেন যে, নিজে থেকে অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
- ব্যথা যদি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়।
- জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে গেলে।
- জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে।
- হাত–পা অসাড় বা দুর্বল হয়ে গেলে।
- আগে থেকে ডায়াবেটিস বা আর্থ্রাইটিস রয়েছে এমন রোগীদের ব্যথা হঠাৎ বেড়ে গেলে।
গুজব নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান জরুরি
চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দেন, শীতে ব্যথা বাড়লেও এটি “ঠান্ডা লাগার কারণে বাত হয়”—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল। একইভাবে, ভেষজ তেল, ঝাড়ফুঁক অথবা অ্যান্টিবায়োটিক—কোনোটিই এই সমস্যার সমাধান নয়। সঠিক সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে চললে শীতকালে জয়েন্ট ও পেশির ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।