যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত নিয়োগ ও ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের জন্য লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। গ্রিনল্যান্ড হলো ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার হুমকি ট্রাম্প আগেও একাধিকবার দিয়েছিলেন। এই নিয়োগের পর ল্যান্ড্রি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এটিকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে শিগগিরই ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে।
আর্কটিক অঞ্চলে ট্রাম্প প্রশাসনের উত্তেজনা সৃষ্টি ন্যাটো জোটের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার ডেনমার্কের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সম্পদসমৃদ্ধ আর্কটিকের এই দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দাবি করে ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। গত মার্চে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যতদূর যেতে হয়, ততদূরই যাবে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ল্যান্ড্রির নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ল্যান্ড্রি ভালোভাবেই বোঝেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ জোরালোভাবে এগিয়ে নেবেন।
গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের অবস্থান ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় পক্ষই বারবার স্পষ্ট করেছে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সেখানকার জনগণই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে করা এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার অধিকাংশই ডেনমার্কের কাছ থেকে স্বাধীনতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নয়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এই নিয়োগের বিষয়ে বলেছেন, এটি গ্রিনল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় কোনো পরিবর্তন আনবে না, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
অতীতেও তলব ও গোয়েন্দা সতর্কতা উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছিল। এ ছাড়া, চলতি মাসের শুরুতে ডেনিশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাও সতর্ক করে জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিচ্ছে এবং বন্ধু ও প্রতিপক্ষ উভয়ের বিরুদ্ধেই সামরিক হুমকি দিচ্ছে।