নৃশংস অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় অপহরণের (Kidnapping) পর লোটো শোরুমের স্বত্বাধিকারী পিন্টু আকন্দকে (৩৫) নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে দুপচাঁচিয়া থেকে তাকে তুলে নিয়ে আদমদীঘি উপজেলার শালগ্রাম কোমরপুর এলাকায় হত্যা করে মাইক্রোবাসসহ ফেলে রেখে যায় অপরাধীরা। এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ঘটনার বিবরণ: ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অপহরণ
নিহত পিন্টু আকন্দ নওগাঁর রানীনগর থানার লোহাচড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের সিও অফিস বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাজারে লোটো শোরুম দিয়ে ব্যবসা করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৪-৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের পর পরই তাকে আদমদীঘি উপজেলার শালগ্রাম কোমরপুর এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয় এবং সেখানেই মাইক্রোবাসসহ মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেপ্তার
এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দ্রুত তৎপর হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস চালক সানোয়ার হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত সানোয়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আদমদীঘি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন, আদমদীঘি থানার ওসি আতাউর রহমান ও দুপচাঁচিয়া থানার ওসি সঙ্গীয় অফিসারসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জানান, এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা (Legal Action) প্রক্রিয়াধীন আছে।