• দেশজুড়ে
  • গেজেটেড মর্যাদা ও ১০ম গ্রেড: নতুন উচ্চতায় প্রাথমিকের ৬৫ হাজার প্রধান শিক্ষক, বাড়ল বেতনও

গেজেটেড মর্যাদা ও ১০ম গ্রেড: নতুন উচ্চতায় প্রাথমিকের ৬৫ হাজার প্রধান শিক্ষক, বাড়ল বেতনও

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
গেজেটেড মর্যাদা ও ১০ম গ্রেড: নতুন উচ্চতায় প্রাথমিকের ৬৫ হাজার প্রধান শিক্ষক, বাড়ল বেতনও

উপশিরোনাম: দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের পর অবশেষে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার স্বীকৃতি পেলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা; জারি হলো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও ন্যায্য দাবি অবশেষে বাস্তবায়িত হলো। সব ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা এবং আইনি বাধা কাটিয়ে সারা দেশের ৬৫ হাজার ৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড ১১তম থেকে উন্নীত করে ১০ম গ্রেড (Grade 10) করা হয়েছে। এর ফলে তারা এখন থেকে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা’ (2nd Class Gazetted Officer) হিসেবে মর্যাদাপ্রাপ্ত হলেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।

নতুন বেতন কাঠামো ও আর্থিক সুবিধা

বেতন গ্রেড পরিবর্তনের ফলে প্রধান শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগের ১১তম গ্রেড অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন (Basic Salary) শুরু হতো ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে, যা বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ২৩০ টাকায় গিয়ে পৌঁছাত। এখন ১০ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার পর তাদের মূল বেতন শুরু হবে ১৬ হাজার টাকা থেকে এবং এই স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপ হবে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদার ক্ষেত্রেও তারা এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারি

এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পেছনে ছিল দীর্ঘ এক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের চূড়ান্ত সম্মতির পর অর্থ বিভাগ এই গ্রেড উন্নীতকরণের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির (Secretary Committee) অনুমোদনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৫ ডিসেম্বর সই হওয়া এই প্রজ্ঞাপনটি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে।

আইনি লড়াই ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

মূলত সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়ের মাধ্যমেই প্রধান শিক্ষকদের এই গেজেটেড পদমর্যাদা ও ১০ম গ্রেড পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছিল। উচ্চ আদালত থেকে ইতিবাচক নির্দেশনা থাকলেও নানা আমলাতান্ত্রিক কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। গত ২৮ অক্টোবর প্রথমে রিট আবেদনকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড বৃদ্ধি করা হয়। এরপর দেশের সব প্রধান শিক্ষকের জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয় সরকার, যার চূড়ান্ত ফল এই সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপন।

সহকারী শিক্ষকদের দাবির বর্তমান অবস্থা

প্রধান শিক্ষকরা তাদের অধিকার আদায় করতে পারলেও বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে (Grade 13) রয়েছেন। তাদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার টাকা। সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘ দিন ধরে তাদের বেতন গ্রেড ১১তম করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব বর্তমানে জাতীয় বেতন কমিশনের (National Pay Commission) কাছে বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক সমাজের মতে, প্রধান শিক্ষকদের এই গেজেটেড মর্যাদা প্রাপ্তি দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক। এটি শিক্ষকদের মনোবল বৃদ্ধিতে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Tags: pay commission primary education headmaster salary 10th grade gazetted officer bangladesh government salary update teacher status