পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক পথ পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন প্রভাবশালী নেতা মো. হেলাল মুন্সি (৫৮)। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার একটি ঘরোয়া বৈঠকে (Uthan Boithak) তিনি এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তার এই দলবদল পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যেভাবে দলবদল ও একাত্মতা প্রকাশ
দলীয় সূত্রমতে, হেলাল মুন্সি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং উপজেলা কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে নাজিরপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক জনসভায় পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন। জামায়াতের এই শীর্ষস্থানীয় নেতার হাতে হাত রেখে তিনি আগামী নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি ও নতুন লক্ষ্য
যোগদানের পর এক আবেগঘন বক্তব্যে হেলাল মুন্সি বলেন, “আমি দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম। কিন্তু জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি ইসলামের খেদমত এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের রাজনীতিতে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। আমি এখন থেকে জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী হিসেবে কাজ করব এবং আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (National Election) ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের বিজয় নিশ্চিত করতে আমার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করব।”
বিএনপির কঠোর অবস্থান ও বহিষ্কারাদেশ
হেলাল মুন্সির এই আকস্মিক দলবদলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ সংবাদমাধ্যমকে জানান, হেলাল মুন্সি দলীয় আদর্শ পরিপন্থী ও সাংগঠনিক বিরোধী কার্যকলাপের (Anti-organizational activities) লিপ্ত হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতেই এক জরুরি বৈঠকে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
তৃণমূল রাজনীতিতে গুঞ্জন ও প্রতিক্রিয়া
বাউফলের তৃণমূল (Grassroots) রাজনীতিতে হেলাল মুন্সির এই দলবদল এখন টক অব দ্য টাউন। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ইছাহাক বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “হেলাল মুন্সি একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি স্বেচ্ছায় এবং ইসলামের প্রতি অনুরাগ থেকে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন। তার অন্তর্ভুক্তি আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের একাংশ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি হিসেবে দেখলেও জামায়াত সমর্থকরা একে ‘আদর্শিক পরিবর্তন’ হিসেবে দাবি করছেন। সব মিলিয়ে এই ঘটনা পটুয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরণের ‘পলিটিক্যাল শিফট’ (Political Shift) তৈরি করেছে, যার প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।