নির্বাচনী কৌশল ও ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিশ্চিতকরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে ‘আনুষ্ঠানিক’ আলোচনা শেষ করেছে। দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের ‘অনিবন্ধিত’ মিত্র দল ও জোটের যে সকল শীর্ষ নেতাকে বিএনপি মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের দলে যোগদান করিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিশ্চিত করার বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি দলের অন্তত দুই শীর্ষ নেতা বিএনপিতে যোগদান করে নিজেদের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। আরও দু-একজনের আসন নিশ্চিতের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
নিবন্ধিত শরিক ও সমঝোতার চূড়ান্ত পর্যায়
অন্যদিকে, নিবন্ধিত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা, যাদের ‘জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি’ রয়েছে, তাদের আসনও অনেকটাই নিশ্চিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি খুব মজবুত না হলেও জোটের ঐক্যের স্বার্থে তাদেরকে ইতোমধ্যেই ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালবেলাকে বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে শরিকদের সঙ্গে এরই মধ্যে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, বিষয়টি দু-এক দিনের মধ্যেই সুরাহা হয়ে যাবে, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।” তবে শরিকদের সঙ্গে কয়টি আসনে সমঝোতা হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এজন্য আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। এখন কিছুই বলা যাবে না।”
বাকি ২৮ আসনে শরিকদের সম্ভাবনা ও জোট নেতাদের অভিযোগ
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি এখন পর্যন্ত দুই দফায় মোট ২৭২ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। এর ফলে আর মাত্র ২৮টি আসন ফাঁকা রয়েছে। বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে, এই ফাঁকা আসনগুলোতে মূলত শরিকরাই নির্বাচন করবেন। যদিও জোট নেতাদের অভিযোগ, বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী দল ও জোটের প্রার্থী তালিকা জমা দেওয়া হলেও কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর।