• দেশজুড়ে
  • জামায়াতে যোগদান করায় বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন মুন্সি বহিষ্কার

জামায়াতে যোগদান করায় বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন মুন্সি বহিষ্কার

পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াতে ইসলামীর উঠোন বৈঠকে যোগদানের পরই উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে বহিষ্কারের চিঠি দেওয়া হয় নেতা হেলাল উদ্দিন মুন্সিকে।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
জামায়াতে যোগদান করায় বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন মুন্সি বহিষ্কার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করায় মো. হেলাল উদ্দিন মুন্সি নামে এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উপজেলা কমিটির সদস্য এবং নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে জামায়াতের এক উঠোন বৈঠকে আনুষ্ঠানিক যোগদানের পরই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসে। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীতে (Jamaat-e-Islami) যোগদান করার কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত ওই নেতার নাম মো. হেলাল উদ্দিন মুন্সি। তিনি উপজেলা কমিটির সদস্য এবং উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে কাজ করছিলেন।

আনুষ্ঠানিক যোগদান ও বহিষ্কার

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে বাউফলের সূর্য্যমনি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় জামায়াতে ইসলামী একটি উঠোন বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে হেলাল উদ্দিন মুন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবন উৎসর্গের ঘোষণা

জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের পর ওই উঠোন বৈঠকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হেলাল উদ্দিন মুন্সি বলেন, “প্রায় ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বর্তমানে বিএনপির থানা কমিটির সদস্য এবং নাজিরপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। এখন থেকে জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হয়ে ইসলামের খেদমতে বাকি জীবন উৎসর্গ করতে চাই”। তিনি ভবিষ্যতে নাজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের পক্ষে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা

দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতার জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এর আগে তিনি একবার নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার (Member) পদে ও একবার চেয়ারম্যান (Chairman) পদে নির্বাচন করেছিলেন বলে জানা যায়।

বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মন্তব্য

এ বিষয়ে নাজিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, হেলাল উদ্দিন মুন্সি আগে ১৯৯৬ সালে নৌকা মার্কা ও ২০০১ সালে লাঙ্গল মার্কার সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি নিজেকে সভাপতি হিসেবে প্রচার করলেও পরে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হন, সভাপতি নন। তিনি আরও বলেন, “বিএনপি অনেক বড় দল। আমি মনে করি কোনো কর্মীর দল ত্যাগে বিএনপি দলের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না”।

অন্যদিকে, জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক খালিদুর রহমান দলত্যাগ ও নতুন দলে যোগদানের এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের মূলভিত্তি— চিন্তা, বিশ্বাস ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রয়োগ হিসেবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “স্বেচ্ছায় স্বাধীন সিদ্ধান্ত ব্যক্তির স্বাধিকার প্রয়োগ”।

Tags: politics bangladesh bnp jamaat-e-islami expulsion patuakhali bauphal helal uddin munshi