মাঠের লড়াইয়ে তিনি যেমন অপ্রতিদ্বন্দ্বী, জীবনযাপনের বিলাসিতাতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। পর্তুগিজ সুপারস্টার ও আল-নাসর অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবার আলোচনার কেন্দ্রে তাঁর নতুন ‘রয়াল ইনভেস্টমেন্ট’ নিয়ে। সৌদি আরবের লোহিত সাগরের (Red Sea) বুকে এক নির্জন ব্যক্তিগত দ্বীপে প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১৬ কোটি টাকা) ব্যয়ে দুটি রাজকীয় ভিলা কিনেছেন ৪০ বছর বয়সী এই গ্লোবাল আইকন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বিচ্ছিন্ন দ্বীপে ব্যক্তিগত স্বর্গরাজ্য
লোহিত সাগরের বুকে অবস্থিত অত্যন্ত অভিজাত ‘নুজুমা’ (Nujuma) রিসোর্টে এই বিশাল বিনিয়োগ করেছেন রোনালদো। এই দ্বীপে পৌঁছানোর কোনো সাধারণ পথ নেই; কেবল সি-প্লেন (Seaplane) বা ব্যক্তিগত নৌকাই সেখানে যাওয়ার একমাত্র উপায়। ভিলা দুটির প্রতিটির বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৩ মিলিয়ন পাউন্ড (৫৮ কোটি টাকা)। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রোনালদোর বর্তমান আবাসন থেকে এই দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ৮০০ মাইল। মূলত নাগরিক কোলাহল থেকে দূরে একান্ত ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্যই এই নির্জন গন্তব্য বেছে নিয়েছেন তিনি।
স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক লাক্সারি
রোনালদোর এই নতুন ঠিকানার নকশা করেছেন বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ স্থপতি লর্ড নরম্যান ফস্টার (Lord Norman Foster)। নুজুমা রিসোর্টটিকে বিশ্বের অন্যতম ‘এক্সক্লুসিভ প্রাইভেট আইল্যান্ড ডেস্টিনেশন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনালদো এই প্রকল্পের শুরুর দিকের ক্রেতাদের একজন।
রোনালদোর কেনা প্রপার্টিতে থাকছে:
একটি ৩-বেডরুম এবং একটি ২-বেডরুমের ভিলা।
চারপাশে বিস্তৃত প্যানোরামিক উইন্ডো (Panoramic Windows), যা থেকে সমুদ্রের নীল জলরাশি উপভোগ করা যাবে।
ব্যক্তিগত সুইমিং পুল এবং উন্মুক্ত লিভিং স্পেস।
রাতের তারাভরা আকাশ দেখার জন্য বিশেষ টেলিস্কোপ (Telescope)।
এছাড়া রিসোর্টে থাকছে ডাইভিং সেন্টার, বিলাসবহুল স্পা ও ওয়াটার স্পোর্টস (Water Sports) সুবিধা।
প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগ: রোনালদোর বয়ান
সৌদি গেজেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা আবেগঘন কারণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি সব দিক থেকেই অনন্য। প্রথমবার ভ্রমণের পর থেকেই জর্জিনা ও আমি এই দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রেমে পড়েছি। এখানে আমরা অদ্ভুত এক শান্তি ও প্রশান্তি খুঁজে পাই।” রেড সি ইন্টারন্যাশনালের সিইও জন পাগানোও রোনালদো ও জর্জিনাকে তাদের রেসিডেন্সেস কমিউনিটিতে স্বাগত জানিয়ে এই সিদ্ধান্তকে ‘গোপনীয়তা ও বিলাসিতার মেলবন্ধন’ বলে অভিহিত করেছেন।
মাঠে ফেরার প্রস্তুতি ও আল-নাসরের সুসময়
বিলাসবহুল ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি ফুটবল মাঠেও দারুণ ছন্দে রয়েছেন সিআর সেভেন। সৌদি প্রো লিগের (Saudi Pro League) শীতকালীন বিরতির পর আবারও মাঠে নামার অপেক্ষায় তিনি। বর্তমানে লিগ টেবিলে আল-নাসর শীর্ষস্থানে রয়েছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলালের চেয়ে তারা ৪ পয়েন্টে এগিয়ে। রোনালদোর জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো, ক্লাবটির ওপর থাকা ফিফার ট্রান্সফার ব্যান (Transfer Ban) তুলে নেওয়া হয়েছে, ফলে জানুয়ারি উইন্ডোতে নতুন শক্তিশালী খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে পারবে ক্লাবটি।
আল-নাসরের পরবর্তী ম্যাচ এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-তে (AFC Champions League 2) ইরাকি ক্লাব আল-জাওরার বিপক্ষে। তবে এই ম্যাচে রোনালদো বিশ্রামে থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ভক্তরা আশা করছেন, আগামী ২৭ ডিসেম্বর সৌদি প্রো লিগে আল-আখদউদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই তিনি আবারও তাঁর গোল-ক্ষুধা মেটাতে মাঠে নামবেন।