দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে মাদারীপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। তারা এরই মধ্যে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বাস, মাইক্রো, ব্যান্ডপার্টি ভাড়া করাসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
ঢাকায় যাচ্ছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ
জেলা বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের ৫টি উপজেলা থেকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ঢাকায় যাবেন ৩০ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী। তাদের পরিবহনের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে প্রায় আড়াই শতাধিক বাস ও অসংখ্য মাইক্রো গাড়ি।
পরিবহনের জন্য প্রস্তুত ২৫০টির বেশি যান
জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দলসহ সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিলে আলোচনা সভার মাধ্যমে ঢাকায় যাওয়ার দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে রাজৈর ও সদর দুই উপজেলার জন্য ২২টি বাস ও অসংখ্য মাইক্রোবাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিবচর, কালকিনি ও ডাসার উপজেলাতেও কয়েক শতাধিক বাস ও মাইক্রো প্রস্তুত রেখেছে বিএনপি।
মাদারীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান জানান, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন মিলে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ ঢাকায় যাবে। মাদারীপুর-২ আসন (রাজৈর ও সদর উপজেলা) থেকেই প্রায় ৫ হাজার লোকের আয়োজনের জন্য ২২টি বাস ও অগণিত মাইক্রো ভাড়া করা হয়েছে। পুরো জেলার ৫৯টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা থেকে প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ গাড়ি ঢাকায় যাবে।
এদিকে যুবদলের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে প্রতিটি উপজেলায় গাড়ি ভাড়া করা হচ্ছে। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান ফুকু বলেন, তাঁদের টার্গেট শুধু যুবদলেরই ২২৫টি গাড়ি যাবে এবং প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি উপজেলায় দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় নেতারা গাড়ি ভাড়া করছেন।
মাদারীপুর আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি (একাংশ) মোফাজ্জল হোসেন সান্টু জানান, বিভিন্ন সংগঠন গাড়ি ভাড়া নিচ্ছে, তবে কতগুলো গাড়ি ভাড়া হয়েছে তা তার জানা নেই। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট তিন শতাধিক বাস রয়েছে।
যাত্রার সময়সূচি
মাদারীপুর থেকে এই যাত্রা শুরু হবে ২৪ ডিসেম্বর রাত থেকে। তবে অনেকেই নিজ উদ্যোগে আজকে থেকেই ঢাকা যাওয়া শুরু করেছেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান জাকির জানান, ঢাকায় যাওয়ার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা এসেছে এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সেভাবেই তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তারেক রহমান স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে দেশত্যাগ করেন। পরে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। তবে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর তারেক রহমান মামলার দণ্ডাদেশ থেকে মুক্তি পান।