• জাতীয়
  • হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর মোড়: অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার ঘাতক আলমগীরের সহযোগী

হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর মোড়: অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার ঘাতক আলমগীরের সহযোগী

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর মোড়: অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার ঘাতক আলমগীরের সহযোগী

রাজধানীর আদাবরের আবাসিক হোটেলে আত্মগোপনে থেকে ‘ক্রাইম ওয়ার্ল্ড’ নিয়ন্ত্রণ করতেন যুবলীগ কর্মী হিমন; উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও তাজা গুলি।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। হাদিকে হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক আলমগীরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আদাবর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে কবজায় নেয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল (Foreign Pistol), তিন রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ শক্তিশালী বিস্ফোরক (Explosives) উদ্ধার করা হয়েছে।

হোটেল থেকে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ

তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ADC) মো. জুয়েল রানা বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত হিমন রহমান শিকদার (৩২) আদাবর থানা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশের দাবি, হিমন আদাবরের ওই আবাসিক হোটেলে ছদ্মনামে অবস্থান করে আত্মগোপনে ছিলেন এবং সেখান থেকেই নিজের অপরাধ জগৎ বা ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’ (Underworld) নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার গতিবিধি নজরদারি করার পর বুধবার সকালে পুলিশ সেখানে হানা দেয়।

অস্ত্র উদ্ধার ও হাদি হত্যায় সংশ্লিষ্টতা

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আদাবর এলাকার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এডিসি জুয়েল রানা বলেন, “আমরা তদন্তে নিশ্চিত হয়েছি যে, শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার মিশনে যে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটির চালক ছিলেন আলমগীর। আর এই আলমগীরের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলেন এই হিমন। হাদি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমনের সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।”

তদন্তে নতুন মাত্রা

গত কয়েক মাস ধরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদি হত্যা মামলাটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ঘাতক চক্রের সদস্যদের একে একে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়ায় হিমনের গ্রেপ্তারকে একটি ‘বড় ব্রেকথ্রু’ (Breakthrough) হিসেবে দেখছে ডিএমপি (DMP)। পুলিশ মনে করছে, হিমনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ এবং আরও কারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া যাবে।

বর্তমানে হিমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হাদি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য উন্মোচনে পুলিশের এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags: murder case dhaka police jubo league inqilab mancha hadi murder arrest news foreign pistol crime update adabar news criminal world