পে স্কেল নিয়ে কর্মচারীদের অসন্তোষ নতুন বেতনকাঠামো বা নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাতে এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্মচারী সংগঠনগুলো তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। কিন্তু পে কমিশন এখনো নবম পে স্কেল সংক্রান্ত কোনো সুপারিশ দাখিল না করায় কর্মচারী সংগঠনগুলো আবারও কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন বছরে ধারাবাহিক কর্মসূচির আভাস সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, নতুন বছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু হতে পারে। এই সম্ভাব্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— প্রতীকী অনশন, সমাবেশ, মহাসমাবেশ এবং দৈনিক এক থেকে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি। কর্মসূচির নির্দিষ্ট ধরন ও তারিখ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
বিধিমালা মেনেই হবে আন্দোলন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ স্পষ্ট করেছে যে, তাদের সব কর্মসূচি সরকারি চাকরিজীবী বিধিমালা ও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে হবে না। সংগঠনের এক নেতা জানিয়েছেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে তারা ইচ্ছেমতো কর্মসূচি দিতে পারেন না, তাই চাকরির বিধিমালা ও শৃঙ্খলার মধ্যেই সব কর্মসূচি পালন করা হবে এবং কোনো বিধিমালাবহির্ভূত কর্মসূচি দেওয়া হবে না।
পে কমিশন গঠন ও অনিশ্চয়তা সরকারি চাকরিজীবীদের বৈষম্য দূরীকরণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার পে কমিশন গঠন করে। প্রজ্ঞাপনে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ দাখিল করার বাধ্যবাধকতা ছিল। প্রাথমিকভাবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই সরকারের সময়েই নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে, নভেম্বর মাসে তিনি জানান যে, নতুন পে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার। এই বক্তব্যের পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ক্রমাগত বাড়তে থাকে।