১৭ বছর পর দেশে ফেরা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তার দেশে ফেরার দিন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভ্যর্থনা কেন্দ্র পর্যন্ত সড়কের দু'পাশে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক। তারা দলীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফুল হাতে তাকে স্বাগত জানান। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান।
প্রত্যাবর্তন ও প্রতীকী মুহূর্ত
হালকা ধূসর চেক ডিজাইনের ব্লেজার ও সাদা শার্ট পরিহিত ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে জুতা খুলে খালি পায়ে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। এটিকে তার প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়। অভ্যর্থনা কেন্দ্রে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে ভাষণ শুরু করে তিনি 'প্রিয় বাংলাদেশ' বলে সম্বোধন করেন এবং সব ধর্মের মানুষের ঐক্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র এবং ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতা
তার প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনী সময় পার করছে। নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তারেক রহমান একসময় অর্থপাচারসহ একাধিক মামলায় অনুপস্থিতিতে দণ্ডিত হয়েছিলেন, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার একটি মামলাও ছিল। তবে গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এসব রায় বাতিল হয়ে যায়, ফলে তার দেশে ফেরার আইনি বাধা দূর হয়। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে পালাবদলের রাজনীতির এক অধ্যায় শেষ হয়েছে।
নির্বাচনী সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের ডিসেম্বরের এক জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন পেতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। শেখ হাসিনার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখবেন। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান ও সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।