সকাল থেকেই শীতকে উপেক্ষা করে বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। এছাড়াও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়েছে।
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাজিয়ে-গুছিয়ে রেখেছে স্মৃতিসৌধ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের এলাকায় জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে সাভার-আশুলিয়ার বিএনপির নেতাকর্মীরাও ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছেন। আমিনবাজার থেকে শুরু করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
স্মৃতিসৌধে যাওয়া এবং ফেরার পথে প্রতিটি পয়েন্টেই দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মীরা অবস্থান করবেন এবং ফুল দিয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাবেন।
জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা-১৯ থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর শুক্রবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দিত। আমার নির্বাচনী এলাকা সাভারের ব্যাংকটাউন থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দলীয় ব্যানার, ফেস্টুন এবং বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মী ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয়পাশে অবস্থান করবেন।
এছাড়াও জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং আশপাশের এলাকায় সব মিলিয়ে লক্ষাধিক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটবে বলেও জানান তিনি। জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৗশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু বলেন, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
এজন্য স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নসহ ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। পুরো কমপ্লেক্স পরিষ্কার করার পাশাপাশি লেকও পরিষ্কার করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য জন সাধারণের প্রবেশ সীমিত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক, ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষ্যে তার নিরাপত্তার জন্য সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিতরে এবং বাহিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে সূরা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন দলের নেতাকর্মীরা। পরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তারেক রহমান।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে বহনকারী বিমান বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করে। এসময় বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে বের হন তিনি। এরপর বিমানবন্দরের সামনে জুতা খুলে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করেন তারেক রহমান।