• আন্তর্জাতিক
  • থাইল্যান্ডের শ্রম বাজারে বাংলাদেশের বড় সাফল্য: অদূর ভবিষ্যতে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই

থাইল্যান্ডের শ্রম বাজারে বাংলাদেশের বড় সাফল্য: অদূর ভবিষ্যতে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
থাইল্যান্ডের শ্রম বাজারে বাংলাদেশের বড় সাফল্য: অদূর ভবিষ্যতে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই

থাই শ্রমমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে এল বড় ঘোষণা; দেশটিতে বিদ্যমান শ্রম ঘাটতি মেটাতে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির ওপর আস্থা রাখছে ব্যাংকক।

জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে থাইল্যান্ড সরকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক বা Memorandum of Understanding (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই ঘোষণা আসে।

শ্রম বাজারে নতুন সম্ভাবনা ও থাইল্যান্ডের আগ্রহ

থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী ট্রিনুচ থিয়েনথং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই উদ্যোগের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া (Recruitment Process) শুরু করতে পারব।” মূলত থাইল্যান্ডে বর্তমানে বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে যে ব্যাপক শ্রমিক সংকট বা Labor Shortage দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই বাংলাদেশের মতো সম্ভাবনাময় উৎস দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে থাই কর্তৃপক্ষ।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনের অঙ্গীকার

বৈঠকে থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত উপায়ে (Safe, Orderly, and Regular Migration) কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি থাই কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি পাঠানোর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা এবং পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থাই কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রাষ্ট্রদূত ফাইয়াজ মুরশিদ কাজী থাই শ্রমমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, ইতিমধ্যে তিনি থাই ব্যবসায়ী সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের (Stakeholders) সাথে এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য শীর্ষ দেশগুলোর সর্বোত্তম অনুশীলন বা Best Practices অনুসরণ করে থাইল্যান্ডে জনশক্তি রপ্তানি করতে আগ্রহী।

শ্রমিক ঘাটতি নিরসনে অগ্রাধিকার

থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী ট্রিনুচ থিয়েনথং তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। থাইল্যান্ডের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সংকট সমাধানে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ও কঠোর পরিশ্রমী কর্মী বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন থাই নীতিনির্ধারকরা।

এই সমঝোতা স্মারক কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাইল্যান্ড হতে পারে বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং নির্ভরযোগ্য শ্রম বাজার। এটি কেবল বৈদেশিক কর্মসংস্থানই বাড়াবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককেও আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tags: economy news thailand job manpower export bangladesh workers labor migration mou signing thailand news expatriate welfare recruitment update asia pacific