• রাজনীতি
  • ১৭ বছর পর দেশে ফিরে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা তারেক রহমানের; সাভারে বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ

১৭ বছর পর দেশে ফিরে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা তারেক রহমানের; সাভারে বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
১৭ বছর পর দেশে ফিরে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা তারেক রহমানের; সাভারে বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ

দীর্ঘ ১৯ বছর পর শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে সাভারের পথে তারেক রহমান; সূর্যাস্তের আগে পৌঁছাতে না পারায় তার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের শীর্ষ নেতারা।

দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরার পর ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তিনি। তবে যাতায়াত পথে প্রবল জনস্রোত এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের পক্ষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা ও শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি

শুক্রবার বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, সূর্যাস্তের আগে তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে না পারায় পূর্বনির্ধারিত প্রটোকল (Protocol) অনুযায়ী নেতারা এই শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। এছাড়াও ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, তমিজউদ্দীন, ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা এই আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।

১৯ বছর পর শহীদ জিয়ার সমাধি জিয়ারত

জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তারেক রহমান তার পিতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধি জিয়ারত করেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে তিনি চন্দ্রিমা উদ্যানের (জিয়া উদ্যান) উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে সমাধি কমপ্লেক্সে প্রবেশ করলে সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে করতালি ও স্লোগানে স্বাগত জানান। জনভোগান্তি এড়াতে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে এই কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করা হলেও নেতাকর্মীদের ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনস্রোত

তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এবং সাভার এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা (Security) ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। লাল-সবুজ রঙের একটি বুলেটপ্রুফ (Bulletproof) বাসে করে তিনি স্মৃতিসৌধের পথে রওনা হন। তার নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন এবং বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো।

এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট

গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) লন্ডন থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রাখেন তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে 'জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে' (সাবেক ৩০০ ফিট) পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি এক ঐতিহাসিক জনসমুদ্রের সৃষ্টি করে। সেখানে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বীর শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তারেক রহমান তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন এবং জাতীয় ঐক্যের এক জোরালো বার্তা দিলেন।

Tags: tarique rahman bangladesh politics bnp news home coming political update national memorial savar tribute zia udyan bangladesh martyrs bnp leaders