হামলা ও পবিত্রতা নষ্টের বিবরণ
শুক্রবার ভোরে মাজারে প্রবেশ করে ভক্তরা দেখতে পান মাজারের মূল অংশের সীমানা প্রাচীর ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মাজারের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পলিথিনে ভরা মল-মূত্র ও গোবর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ মাজারে ভিড় করে এবং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও খাদেমের বক্তব্য
মাজারের খাদেম মো. সাইদুর রহমান (৭০) জানান, তিনি ৪০ বছর ধরে মাজারের দেখাশোনা করছেন। তার মতে, এই মাজারটি মুঘল সম্রাটদের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এত দীর্ঘ সময়ে এমন নৃশংস ও অপবিত্র করার ঘটনা আর কখনও ঘটেনি।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও বিচার দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহম্মেদ বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ভক্তরা এই মাজারে আসেন। রাতের অন্ধকারে যারা এই ভাঙচুর ও অপবিত্রতা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জুয়েল মিয়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দুর্বৃত্তদের এমন ধৃষ্টতার নিন্দা জানিয়েছেন।
পুলিশের ভূমিকা
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মাজারের দেয়ালের একাংশ ভাঙচুর ও মল-মূত্র নিক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তিনি আরও জানান, গত ৮-১০ বছর ধরে মাজারে কোনো বড় ওরস অনুষ্ঠিত হয় না এবং এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ওসি মন্তব্য করেন, 'এ ঘটনাটি বড় করে দেখার সুযোগ নাই। বড় কোনো দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটায়নি।'