জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) শীর্ষ নেতা আহসান হাবীব লিংকন দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে নতুন মোড় এনেছেন। দলের মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তিনি জানান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।
ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ
শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন আহসান হাবীব লিংকন। সেখানে তিনি দলের প্রতি তার হতাশা ও ক্ষোভ স্পষ্ট করেন। তিনি লেখেন, “স্বপ্ন ছিল আমার সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম দিয়ে সারা জীবনের অর্জিত সুনাম-সুখ্যাতি দিয়ে নিজের অর্জিত মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে বাকি জীবটুকু শহীদ জিয়া এবং দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা ও দেশ পরিচালনায় অবদান রাখব। কিন্তু হায়! আমাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেননি।”
মনোনয়ন না পাওয়ায় অসন্তোষ
গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে আহসান হাবীব লিংকন জোটের মধ্যে আসন বন্টন নিয়ে তার দলের প্রতি অবজ্ঞার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, “বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিলাম। কিন্তু এবার আমরা ছয়জনের নাম দিয়েছিলাম। পিরোজপুর-১ আসনে দলের চেয়ারম্যানকে আসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন না। অনেক ছোট ছোট দলকে তিনটা–চারটা করে আসন দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের অবজ্ঞা করা হয়েছে।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন
দলের চেয়ারম্যানের কাছে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছেন পদত্যাগী মহাসচিব। একই সঙ্গে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই পদত্যাগের ঘটনা জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এবং জোটের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।