• দেশজুড়ে
  • হাদি হত্যা: প্রধান আসামিদের পালাতে সহায়তাকারী দুই ভারতীয় মেঘালয়ে গ্রেপ্তার

হাদি হত্যা: প্রধান আসামিদের পালাতে সহায়তাকারী দুই ভারতীয় মেঘালয়ে গ্রেপ্তার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখকে ভারতে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে পুর্তি ও সামী নামে দুই ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করেছে মেঘালয় পুলিশ।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
হাদি হত্যা: প্রধান আসামিদের পালাতে সহায়তাকারী দুই ভারতীয় মেঘালয়ে গ্রেপ্তার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারতে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মেঘালয় পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন পুর্তি ও সামী। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে, এবং আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও পলায়ন

শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর পরই প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ ঢাকা থেকে সিএনজিযোগে আমিনবাজারে যান। সেখান থেকে গাড়িতে করে কালামপুরে এবং পরে অন্য একটি গাড়িতে করে ময়মনসিংহ সীমান্তে পৌঁছান তারা।

যেভাবে সীমান্তের ওপারে পাড়ি

সীমান্তে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রহণ করে ফিলিপ স্নাল ও সঞ্জয় নামে দুই ব্যক্তি, যারা অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের সঙ্গে জড়িত। ফিলিপ স্নাল এই দুজনকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে নিয়ে যান। সেখানে ফিলিপ তাদের তুরার (Tura) ভারতীয় নাগরিক পুর্তির কাছে পৌঁছে দেন। পরে সামী নামের এক ব্যক্তির গাড়িতে করে সেখান থেকে পালিয়ে যান মূল দুই আসামি। এই পুর্তি ও সামীকেই আসামিদ্বয়কে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে মেঘালয় পুলিশ।

গ্রেপ্তার ও তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা

ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, হাদি হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া চারজন সাক্ষীও আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, হাদি হত্যা মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সবার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে এটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডই মনে হচ্ছে।” এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যা তদন্তের দিক নির্দেশ করছে।

Tags: dmp bangladesh crime sharif osman hadi faysal karim masud political assassination hadi murder meghalaya police india arrest