• দেশজুড়ে
  • চট্টগ্রাম বন্দরে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনে প্রতি বছর ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি: সড়ক টিকিয়ে রাখা কঠিন, মন্তব্য মেয়র শাহাদাত হোসেনের

চট্টগ্রাম বন্দরে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনে প্রতি বছর ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি: সড়ক টিকিয়ে রাখা কঠিন, মন্তব্য মেয়র শাহাদাত হোসেনের

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
চট্টগ্রাম বন্দরে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনে প্রতি বছর ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি: সড়ক টিকিয়ে রাখা কঠিন, মন্তব্য মেয়র শাহাদাত হোসেনের

অনুমোদিত সীমার তিন গুণের বেশি ওজন বহনে সড়ক অবকাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত; বন্দরের কাছে ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের দাবি CHATTOGRAM CITY CORPORATION

অতিরিক্ত ওজনের ভারে ক্ষতিগ্রস্ত চসিকের সড়ক

চট্টগ্রাম বন্দরের ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত ওজন বহনের কারণে নগরীর সড়ক অবকাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর শুধু সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (CCC বা চসিক) ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সতর্ক করেছেন যে, বন্দর থেকে ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্স (Holding Tax) আদায় না হলে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া এবং সড়ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

ক্ষতির কারণ: অনুমোদিত সীমার তিন গুণ বেশি ওজন

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরভবনে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এই উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন।

ধারণক্ষমতা লঙ্ঘন: তিনি বলেন, নগরীর সড়কগুলোর নকশাগত ধারণক্ষমতা (Design Capacity) সর্বোচ্চ ১০ টন। অথচ চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যুক্ত ভারী লরি ও ট্রাক নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত অতিরিক্ত ওজন বহন করে চলাচল করছে।

আয়ুষ্কাল হ্রাস: কোনো কোনো যান অনুমোদিত সীমার তিন গুণেরও বেশি ওজন নিয়ে সড়ক ব্যবহার করছে। এর ফলে একটি সড়কের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল (Lifespan) যেখানে তিন থেকে পাঁচ বছর থাকার কথা, সেখানে অতিরিক্ত ওজন বহনকারী এই Commercial Vehicle-গুলোর কারণে সড়ক খুব দ্রুত ভেঙে পড়ছে।

আর্থিক ক্ষতি ও হোল্ডিং ট্যাক্সের দাবি

মেয়র জানান, অতিরিক্ত ওজন বহনের কারণে প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করেও সড়কগুলো টেকসই রাখা যাচ্ছে না, যার ফলে চসিক বছরে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

ট্যাক্স বকেয়া: তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বর্তমানে যে পরিমাণ হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হচ্ছে, তা প্রকৃত পাওনার তুলনায় অনেক কম। বন্দরের বছরে প্রায় ২৬৪ কোটি টাকার কর দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিচ্ছে মাত্র ৪৫ কোটি টাকা।

কঠোর অবস্থান: যৌথ জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত কর নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বন্দর থেকে সঠিক পরিমাণে হোল্ডিং ট্যাক্স পাওয়া গেলে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে করা সম্ভব হবে। এতে নগরীর সড়ক যেমন টেকসই হবে, তেমনি বন্দরের Operations বা কার্যক্রমও আরও গতিশীল ও সচল হবে।

Tags: infrastructure local government chattogram port financial loss ccc road damage holding tax mayor shahadat hossain cargo transport