সিরাজগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজছাত্র আব্দুর রহমানকে (১৮) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) নিহতের বাবা রেজাউল করিম বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (Murder Case) দায়ের করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও লোমহর্ষক হামলা
গত ২৮ ডিসেম্বর (শনিবার) বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের বাহিরগোলা এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহমান ইসলামিয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ওইদিন বিকেলে তিনি একটি অটোরিকশায় বসে ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ১৫-২০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ কিশোর গ্রুপ (Teen Gang) দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অটোরিকশার ভেতরেই তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
তদন্ত ও পুলিশের তৎপরতা
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (Addl. SP) নাজরান রউফ সংবাদমাধ্যমকে জানান, "নিহত শিক্ষার্থীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই Criminal Case-টি তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত এজাহারনামীয় একজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের ধরতে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ‘পূর্ব শত্রুতার’ জের ধরেই এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো Group Rivalry বা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে Law Enforcement Agency।
শোকের ছায়া ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ইসলামিয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির একজন শান্ত স্বভাবের ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন আব্দুর রহমান। তাঁর এই অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবারে শোকের মাতম চলছে। সহপাঠী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। শহরের কেন্দ্রস্থলে দিনেদুপুরে এমন হামলার ঘটনায় জননিরাপত্তা (Public Safety) নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে উদীয়মান ‘কিশোর গ্যাং’-এর বেপরোয়া কর্মকাণ্ড রুখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তাধীন (Under Investigation) এই মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এবং সম্ভাব্য আস্তানায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।