আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ রক্ষা হলো না আলোচিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছানোয় তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে নির্বাচনের জন্য এই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ডেডলাইন ও প্রশাসনিক কঠোরতা
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বিকেল ৫টা। কিন্তু হিরো আলম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমানের কার্যালয়ে উপস্থিত হন বিকেল সাড়ে ৫টায়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৩০ মিনিট পর। এই বিলম্বের কারণে আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে তাঁর মনোনয়ন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় জেলা প্রশাসন।
এ বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, "তাঁকে (হিরো আলম) আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যেন বিকেল ৫টার মধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসতে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পর কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণের সুযোগ নেই।"
হিরো আলমের দাবি ও বিলম্বের কারণ
মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পেরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন হিরো আলম। তিনি দাবি করেন, ফরম পূরণের জটিলতার কারণেই তাঁর অতিরিক্ত সময় লেগেছে। সাংবাদিকদের হিরো আলম বলেন, "আমার মনোনয়নপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সঠিকভাবে পূরণ করতে বাড়তি ৩০ মিনিট সময় লেগে গিয়েছিল। আমি সাড়ে ৫টায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গেলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।"
রাজনৈতিক অবস্থান ও তারেক রহমানের প্রতি সম্মান
এদিন সকালেই হিরো আলম ‘আমজনতা পার্টি’র প্রার্থী হিসেবে বগুড়া-৪ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর আগে গুঞ্জন ছিল তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ প্রসঙ্গে হিরো আলম এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "অনেকে আমাকে সদর আসন থেকে নির্বাচন করতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করছেন। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়েই আমি ওই আসন থেকে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং নিজের পুরোনো আসন বগুড়া-৪ বেছে নিয়েছি।"
নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয়
মনোনয়নপত্র তোলার পর হিরো আলম তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি প্রশাসনের কাছে একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী বা 'Gunman' দাবি করেন। তিনি বলেন, "আমি বারবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি। আমার জীবনের নিরাপত্তা প্রয়োজন। অনেক প্রার্থীই গানম্যান চাইছেন।"
পাশাপাশি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি বলেন, "বিগত কয়েকটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। এবারও ভোট সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মতো আমিও সন্দিহান। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন চাই।"
উল্লেখ্য, বগুড়া-৪ আসনে এর আগেও একাধিকবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন হিরো আলম। তবে এবার সময়ের কাছে পরাজিত হয়ে তাঁর সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন প্রাথমিক ধাপেই বড় ধাক্কা খেল।