বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি নিয়ে তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অবাধ নির্বাচনের জন্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি
অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সরকারেরও দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন আসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছে। এজন্য এখন থেকেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”। তিনি বিশ্বাস করেন, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হলেই মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও কারাবরণ
আসলাম চৌধুরী উল্লেখ করেন, সীতাকুণ্ডের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবেই তিনি 'ধানের শীষ' প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, ২০১২-১৩ সাল থেকে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বহু নেতাকর্মী আহত ও নিহত হয়েছেন। তিনি নিজেও ২০১৬ সালে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ আট বছর কারাবরণ করেছেন। তিনি মনে করেন, এসব ত্যাগের ধারাবাহিকতায় দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা সীতাকুণ্ডবাসীর প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
নির্বাচিত হলে সীতাকুণ্ডের উন্নয়নে গুরুত্ব
শিল্পাঞ্চল হিসেবে সীতাকুণ্ড দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত করে উদ্যোক্তাদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।
মনোনয়ন জমার শেষ দিন
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও ৩৪টি থানা এলাকা নিয়ে মোট ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে ৪টি, উত্তরে ৭টি এবং দক্ষিণে ৫টি আসন। ১১ ডিসেম্বর তপশিল ঘোষণার পর থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।