বিশ্ব ফুটবলের আকাশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেনের এই তরুণ তুর্কিকে ঘিরে ফুটবল মহলে উন্মাদনার শেষ নেই। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তাকে তুলনা করা হচ্ছে লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো সর্বকালের সেরাদের সঙ্গে। তবে গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডসের জমকালো মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই সব তুলনাকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিলেন ইয়ামাল। জানিয়ে দিলেন, কারও ছায়া হয়ে নয়, তিনি ফুটবল ইতিহাসে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বা ‘Legacy’ তৈরি করতে চান।
দুবাইয়ের মঞ্চে ইয়ামালের দ্বিমুকুট
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আয়োজিত ২০২৫ ‘গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডস’ (Globe Soccer Awards) অনুষ্ঠানে মধ্যমণি ছিলেন ইয়ামাল। এই আসরে তিনি ‘বেস্ট ফরোয়ার্ড’ এবং ‘বেস্ট অনূর্ধ্ব-২৩ পুরুষ খেলোয়াড়’—এই দুটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। ইয়ামাল যখন মঞ্চে উঠে নিজের পুরস্কার গ্রহণ করছিলেন, তখন দর্শকাসনের একেবারে প্রথম সারিতে বসা ছিলেন ফুটবলের গ্লোবাল আইকন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
তুলনা প্রসঙ্গে ইয়ামালের সাহসী অবস্থান
পুরস্কার গ্রহণের পর এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ইয়ামালকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি ভবিষ্যতে কার মতো হতে চান কিংবা কার সঙ্গে নিজের তুলনা পছন্দ করেন? প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত পরিপক্বতা এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইয়ামাল বলেন, “আসলে নিজেকে কারও সঙ্গে তুলনা না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো লিজেন্ডরা যা অর্জন করেছেন, তা তারা নিজেদের স্বকীয়তায় করেছেন। আমি কাউকে অনুকরণ করতে চাই না; আমি নিজেই নিজের পথ তৈরি করতে চাই।”
রোনালদোর সেই হাসিমুখ ও নীরব সম্মতি
ইয়ামালের এই সাহসী বক্তব্যের ঠিক পরেই ক্যামেরার লেন্স ঘুরে যায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দিকে। এই তরুণ স্প্যানিশ তারকার কথা শুনে রোনালদোর মুখে ফুটে ওঠে এক চিলতে হাসি। তিনি সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে ইয়ামালের ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানান। আল-নাসর তারকার এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোনালদোর এই হাসি ছিল একজন উত্তরসূরির আত্মবিশ্বাসের প্রতি তার বিশেষ স্বীকৃতি।
২০২৫: ইয়ামালের সাফল্যের বছর
ইয়ামালের জন্য ২০২৫ সালটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই স্বপ্নের মতো। বার্সেলোনার জার্সিতে লা লিগাসহ তিনটি শিরোপা জয়ের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তার ‘Market Value’ এখন আকাশচুম্বী। স্পেন জাতীয় দলের হয়েও তিনি অসাধারণ পারফর্ম করেছেন, যদিও নেশন্স লিগের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে রোনালদোর পর্তুগালের কাছে টাইব্রেকারে হার মানতে হয়েছিল ইয়ামালের স্পেনকে।
রোনালদোর অর্জন ও উত্তরসূরির প্রতি স্নেহ
দুবাইয়ের এই অনুষ্ঠানে রোনালদো নিজেও খালি হাতে ফেরেননি। তিনি ‘বেস্ট মিডল ইস্টার্ন প্লেয়ার’ এবং ‘টপ গোলস্কোরার অল টাইম’ পুরস্কার দুটি নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। এর আগেও রোনালদো প্রকাশ্যে ইয়ামালের প্রতিভা নিয়ে উচ্চাশা প্রকাশ করেছিলেন। ইয়ামালকে ‘একজন ফেনোমেনন’ (Phenomenon) হিসেবে আখ্যা দিয়ে সিআর সেভেন ফুটবল বিশ্বের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন, যেন এই তরুণ তারকার ওপর অযথা প্রত্যাশার পাহাড় বা অতিরিক্ত ‘Pressure’ চাপিয়ে দেওয়া না হয়।
ইয়ামালের এই দৃঢ়চেতা বক্তব্য এবং রোনালদোর অমায়িক সমর্থন যেন একটি বার্তাই দিচ্ছে—ফুটবল বিশ্ব নতুন এক সাম্রাজ্যের উত্থান দেখছে, যেখানে ইয়ামাল নিজেই নিজের কারিগর।