আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য যশোরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েও পাঁচ দলের ছয়জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) যশোর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মনোনয়ন জমা দিতে না পারা এই ছয় প্রার্থী তাদের দাবি তুলে ধরেন।
প্রার্থীদের অভিযোগের মূল বিষয় প্রার্থীরা জানিয়েছেন, ২৯ ডিসেম্বর সকাল থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য তাঁরা সশরীরে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট বুথ থেকে সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহ করে অপেক্ষা করছিলেন। লিখিত আবেদনে তাঁরা উল্লেখ করেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন গ্রহণ চলতে থাকায় ৫টা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাঁদের অপেক্ষা করার জন্য জানানো হয় এবং বলা হয় যে সবার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে। কিন্তু ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত মনোনয়ন গ্রহণ করার পর হঠাৎ করেই সময় শেষ জানিয়ে আর কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি।
যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন জমা পড়েনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারা প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যশোর-৩ আসনের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ, খেলাফত মজলিস যশোর জেলা সভাপতি ও যশোর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল্লাহ, একই দলের মণিরামপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও যশোর-৫ আসনের প্রার্থী মাওলানা তবিবুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডির) যশোর-৪ আসনের প্রার্থী আবু মুছা, গণঅধিকার পরিষদের নেত্রী ও যশোর-৬ আসনের প্রার্থী জেসিনা মুর্শিদ প্রাপ্তি এবং একই পরিষদের নেতা ও যশোর-৪ আসনের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।
নির্বাচন কর্মকর্তার বক্তব্য জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা যথাসময়ে উপস্থিত ছিলাম এবং আমাদের অপেক্ষা করতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মনোনয়ন গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।" এই পরিস্থিতিতে, যারা নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত ছিলেন, তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার জন্য প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব এই অভিযোগের বিপরীতে বলেন, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি।