টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে বোলারদের রাজত্ব সাধারণত রিস্ট স্পিনারদের দখলেই থাকে। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারণা ভেঙে এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়লেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে শুরু করে গ্লোবাল ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ—সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে উইকেটের ‘সেঞ্চুরি’র দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন তিনি। এর মাধ্যমেই ভেঙে গেল আফগান জাদুকর রশিদ খানের দীর্ঘ আট বছরের এক অনন্য রেকর্ড।
রশিদ খানকে টপকে চূড়ায় হোল্ডার
২০১৮ সালে আফগানিস্তানের রশিদ খান এক পঞ্জিকাবর্ষে (Calendar Year) ৯৬টি উইকেট শিকার করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই রেকর্ডের আশেপাশে কেউ পৌঁছাতে না পারলেও ২০২৫ সালটি যেন নিজের করে নিলেন হোল্ডার। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টিতে (ILT20) আবুধাবি নাইট রাইডার্সের হয়ে ২৪ রানে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। আর এই দুই উইকেটের মাধ্যমেই নিজের উইকেট সংখ্যাকে ৯৭-এ নিয়ে যান তিনি, যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের এক বছরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নতুন রেকর্ড।
পরিসংখ্যানে হোল্ডারের অবিশ্বাস্য দাপট
২০২৫ সালে হোল্ডার ছিলেন ক্লান্তিহীন এক পারফর্মার। বছরজুড়ে বিভিন্ন মহাদেশে মোট ৬৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান যে কোনো বিশ্বসেরা বোলারের জন্য ঈর্ষণীয়:
মোট উইকেট: ৯৭
বোলিং গড়: ২১.৪২
ইকোনমি রেট: ৮.৩০
সেরা বোলিং: ৪/১৪ (বার্বাডোজ রয়্যালস, সিপিএল)
পুরো বছরে মোট ছয়টি ম্যাচে তিনি চার বা তার বেশি উইকেট শিকার করেছেন। বিশেষ করে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (CPL) বার্বাডোজ রয়্যালসের হয়ে তাঁর বিধ্বংসী বোলিং ছিল চোখে পড়ার মতো।
পেসারদের রাজত্ব ও হোল্ডারের বিশেষত্ব
টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এক বছরে ৯০-এর বেশি উইকেট নিতে পেরেছেন কেবল দুজন—রশিদ খান ও জেসন হোল্ডার। তবে পেসারদের কথা বললে হোল্ডারের ধারেকাছে কেউ নেই। এর আগে ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই কিংবদন্তি ডোয়াইন ব্রাভো ৭১ ইনিংসে ৮৭টি উইকেট নিয়েছিলেন। হোল্ডার এবার সেই ‘বেঞ্চমার্ক’ (Benchmark) অনেক উঁচুতে নিয়ে গেলেন। পেস বোলার হিসেবে টানা এতগুলো ম্যাচ খেলে ফিটনেস বজায় রেখে উইকেট শিকার করে যাওয়া তাঁর পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ব্যাট হাতেও দ্যুতি: প্রকৃত অলরাউন্ডার
জেসন হোল্ডার কেবল বল হাতেই নয়, ২০২৫ সালে ব্যাট হাতেও ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। ক্রিকেটের এই ছোট ফরম্যাটে এক বছরে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৮৪৬ রান। একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার (All-rounder) হিসেবে একই বছরে প্রায় ১০০ উইকেট এবং ৮০০-এর বেশি রান করার ঘটনা ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল। মূলত তাঁর এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের কারণেই বিশ্বের বড় বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে তিনি ছিলেন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়দের একজন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, জেসন হোল্ডারের এই অর্জন প্রমাণ করে যে অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঠিক পরিশ্রম যুক্ত হলে যেকোনো ফরম্যাটেই দাপট দেখানো সম্ভব। বছর শেষে এই রেকর্ড ভাঙা কেবল হোল্ডারের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা।