ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নাটকীয়তার অবসান হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে পদত্যাগ করা আশরাফুল ইসলাম সেলিম ওরফে কবি সেলিম বালা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়ে প্রচারণা চালালেও জোটের শরিক দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সমীকরণে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি।
বিএনপি থেকে পদত্যাগ ও নতুন যাত্রা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কবি সেলিম বালা ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে সেবারও তিনি বঞ্চিত হন। এবারও দলটির পক্ষ থেকে প্রকৌশলী এম ইকবাল হোসেইনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সেলিম বালা ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৩ নভেম্বর জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন এবং দলটির পক্ষ থেকে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ময়মনসিংহে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেন।
জোটের সমীকরণে পিছুটান এনসিপির প্রার্থী হিসেবে গত ১০ ডিসেম্বর তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। গত ২৩ ডিসেম্বর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে এসে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়। কেন্দ্রীয়ভাবে জোটের শরিক দলের প্রার্থীর জন্য ময়মনসিংহ-৩ আসনটি ছেড়ে দেয় এনসিপি। ফলে গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তিনি আর আবেদন জমা দেননি।
দলীয় আনুগত্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য তারিক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জোটের স্বার্থে এবং পার্টির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে কবি সেলিম বালা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার নির্বাচনী এলাকা গৌরীপুরের অচিন্তপুর ইউনিয়নের মুখোরিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এলাকায় একজন নিভৃতচারী দানবীর হিসেবে পরিচিত এই নেতার সরে দাঁড়ানোয় তার অনুসারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
নিরব ভূমিকায় সেলিম বালা ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে কবি সেলিম বালার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে চান না বলেই এই নিরবতা পালন করছেন।