• আন্তর্জাতিক
  • বছরের শেষ দিনে ভারতের ‘প্রলয়’ হানা: নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মিসাইলের জোড়া সফল উৎক্ষেপণ

বছরের শেষ দিনে ভারতের ‘প্রলয়’ হানা: নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মিসাইলের জোড়া সফল উৎক্ষেপণ

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
বছরের শেষ দিনে ভারতের ‘প্রলয়’ হানা: নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মিসাইলের জোড়া সফল উৎক্ষেপণ

ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলে সামরিক শক্তির অভাবনীয় প্রদর্শনী; ‘স্যালভো লঞ্চ’ পদ্ধতিতে লক্ষ্যভেদে ১০০ শতাংশ নিখুঁত ডিআরডিও-র এই আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

২০২৫ সালের বিদায়লগ্নে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার এক বিধ্বংসী ও অভাবনীয় প্রদর্শনী করল ভারত। বছরের শেষ দিনে বিশ্বকে নিজেদের আত্মনির্ভরতার বার্তা দিয়ে ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূল থেকে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্বল্প পাল্লার আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Quasi-Ballistic Missile) ‘প্রলয়’-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এই পরীক্ষা চালানো হয়, যা ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে জোড়া উৎক্ষেপণ: লক্ষ্যভেদে অব্যর্থ ‘প্রলয়’

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এবারের পরীক্ষার বিশেষত্ব ছিল এর ‘স্যালভো লঞ্চ’ (Salvo Launch) বা জোড়া উৎক্ষেপণ পদ্ধতি। একটি নির্দিষ্ট লঞ্চার থেকে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। বঙ্গোপসাগরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর ওপর এই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে এই ‘স্যালভো লঞ্চ’ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

প্রলয় মিসাইলের কারিগরি সক্ষমতা

ডিআরডিও-র (DRDO) সম্পূর্ণ নিজস্ব কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত একটি ভূমি থেকে লক্ষ্যভেদী (Surface-to-Surface) আধা-ব্যালিস্টিক সমরাস্ত্র। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কিছু বিশেষ কারিগরি দিক একে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্বল্প পাল্লার মিসাইলে পরিণত করেছে:

রেঞ্জ ও পেলোড: এটি ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম।

অ্যাডভান্সড নেভিগেশন: এতে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম (Navigation System) এবং লিড প্রোপেল্যান্ট (Solid Propellant), যা একে লক্ষ্যভেদে অব্যর্থ করে তোলে।

ম্যানুভারেবিলিটি: এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝ-আকাশে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল (Interceptor Missile) বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া এর জন্য অত্যন্ত সহজ।

কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতায় নতুন মাত্রা

বুধবারের এই ঐতিহাসিক পরীক্ষার সময় ঘটনাস্থলে ডিআরডিও-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি ভারতীয় স্থল, নৌ এবং বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়ার (Immediate Military Response) ক্ষেত্রে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হবে। এটি ভারতের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (Strategic Deterrence) কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিনন্দন ও সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্তি

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সফলতায় ডিআরডিও এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “পরপর দুটি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা প্রমাণ করে যে ভারত এখন প্রকৃত যুদ্ধের (Actual Combat) জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।”

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি খুব শীঘ্রই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সমরাস্ত্র ভাণ্ডারে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত (Induction) করা হবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এটি এক বিশাল সাফল্য। বছরের শেষ দিনে এমন এক শক্তিশালী সমরাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের সামরিক আত্মনির্ভরতার এক বলিষ্ঠ বার্তা হিসেবেই দেখছে বিশ্ব মহল।

Tags: military technology indian army ballistic missile india missile drdo news pralay missile defense update salvo launch