আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ— যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবলের মহোৎসব ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬’-এর। এই মেগা ইভেন্টকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, তখন ফুটবল প্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন— লিওনেল মেসি কি খেলবেন? ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি এখনও নিজের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা না দিলেও, খোদ প্রতিপক্ষ শিবিরের কোচ চাইছেন মেসি যেন মাঠেই থাকেন। ইউরো জয়ী স্পেনের সফল কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মেসির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে এক বড় মন্তব্য করেছেন। তাঁর সাফ কথা, ‘মেসি যেন কখনোই অবসর না নেন।’
‘মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো ব্যতিক্রম’: দে লা ফুয়েন্তের অকপট স্বীকারোক্তি
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দে লা ফুয়েন্তে মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, এই দুই ফুটবল নক্ষত্র বয়সের সীমানা ছাড়িয়ে ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “মেসি এমন একজন ফুটবলার, যার কখনোই বুট তুলে রাখা উচিত নয়। ঠিক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতোই। তাঁরা অসাধারণ, অতিমানবীয়।”
স্প্যানিশ কোচের মতে, বর্তমান ফুটবলে কৌশলের চেয়েও বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে মেসির ব্যক্তিগত জাদু। তিনি আরও যোগ করেন, “বিশ্বকাপ বা ফিনালিসিমায় মেসির বর্তমান ফর্ম যেমনই থাকুক, তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি মুহূর্তের ব্যবধানে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন (Difference Maker)। তাঁর ক্যারিয়ার এবং অর্জনের প্রতি আমার অসীম সম্মান রয়েছে।”
নিজের অংশগ্রহণ নিয়ে কী ভাবছেন এলএমটেন?
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। বাছাইপর্বে ৮টি গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন, ধার এখনও কমেনি। তবে জুনে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই মহাতারকা পা রাখছেন মেপে মেপে। সম্প্রতি স্প্যানিশ প্রকাশনা ‘স্পোর্ত’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নামার চিন্তাটা অত্যন্ত ‘রোমাঞ্চকর’।
তবে শারীরিক সক্ষমতা বা ‘ফিজিক্যাল ফিটনেস’ নিয়ে তিনি কোনো আপস করতে রাজি নন। মেসির ভাষায়, “আমি দলের ওপর বোঝা হতে চাই না। আমি নিশ্চিত হতে চাই যে আমি দলকে সাহায্য করতে পারব। ইন্টার মায়ামিতে আমাদের সিডিউল ইউরোপের লিগগুলোর মতো নয়। বিশ্বকাপের আগে প্রাক-মৌসুম এবং কয়েকটি ম্যাচ খেলে আমি নিজের অবস্থা বুঝতে পারব। আমি এখন প্রতিটি দিন ধরে এগোতে চাই।”
ফিনালিসিমা: বিশ্বকাপেরই এক ছোট মহড়া
আগামী ২৭ মার্চ এক হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন এবং আর্জেন্টিনা। ইউরো জয়ী স্পেন এবং কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা ‘ফিনালিসিমা’ ট্রফির জন্য লড়াই করবে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপের আগে মেসির জন্য এক বড় পরীক্ষা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা স্পেনের বিপক্ষে মেসি নিজেকে কতটুকু মেলে ধরতে পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।
‘মেসি খেলবেনই’, আত্মবিশ্বাসী হাভিয়ের জানেত্তি
আর্জেন্টাইন ফুটবল লিজেন্ড হাভিয়ের জানেত্তি অবশ্য মেসির বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দিহান নন। তাঁর মতে, গ্রুপ ‘জে’-তে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডানের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মেসিই হবেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান অস্ত্র। জানেত্তি বলেন, “মেসি অত্যন্ত বুদ্ধিমান। সে জানে দলের কখন কী প্রয়োজন। তাঁর চারপাশে তরুণ একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে, যা তাঁর ওপর থেকে চাপ কমাবে। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে মেসি আবারও নীল-সাদা জার্সিতে বিশ্বমঞ্চ মাতাবেন।”
মেসির উপস্থিতি কেবল আর্জেন্টিনার জন্য নয়, বরং টুর্নামেন্টের ‘মার্কেট ভ্যালু’ এবং বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এখন দেখার বিষয়, জুনের তপ্ত দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে মহাতারকার বাঁ পায়ের জাদু আবারও ভক্তদের মোহিত করে কি না।