• জাতীয়
  • রেকর্ড আয়: লাভের ধারা অব্যাহত রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

রেকর্ড আয়: লাভের ধারা অব্যাহত রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির আয় বেড়েছে ৯.৪৬ শতাংশ; নিট মুনাফা হয়েছে ৭৮৫ কোটি টাকারও বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
রেকর্ড আয়: লাভের ধারা অব্যাহত রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা আয় করে লাভের ধারা অব্যাহত রেখেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯.৪৬ শতাংশ বেশি। টানা পঞ্চমবারের মতো নিট মুনাফা অর্জন করেছে সংস্থাটি এবং সর্বশেষ ১০ অর্থবছরের মধ্যে ৯ বারই তারা লাভবান হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বার্ষিক সাধারণ সভায় এই আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়।

রেকর্ড মুনাফা ও প্রবৃদ্ধির বিস্তারিত

বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিমান ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা অপারেশনাল মুনাফা অর্জন করেছে। একই অর্থবছরে বিমানের নিট মুনাফা ছিল ৭৮৫.২১ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১৭৮ শতাংশ বেশি। এটি বিমানের টানা পঞ্চমবারের মতো লাভজনক হওয়া এবং বিগত ১০ অর্থবছরে নবমবারের মতো নিট মুনাফা অর্জনের রেকর্ড।

পরিচালনা পর্ষদের সভা ও অংশগ্রহণকারীগণ

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশির উদ্দিন। পর্ষদ সদস্য ছাড়াও সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা শেয়ার হোল্ডার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

যাত্রী ও কার্গো পরিবহনে সাফল্য

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের বহরের ২১টি উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৩০টি গন্তব্যে মোট ৩৩.৮৩ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। এছাড়াও, ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করে তারা ৯২৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের অর্থ বছরের তুলনায় ৪৫.২১ শতাংশ বেশি। একই অর্থবছরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ৩১ হাজার ১১২টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৬১ লাখ ৩ হাজার ১৪৭ জন যাত্রীকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাও প্রদান করেছে বিমান।

ভর্তুকিহীন নিজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান

সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সম্পূর্ণরূপে নিজস্ব আয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। বিগত ৫৪ বছরে বিমান সরকার থেকে কোনো ধরনের ভর্তুকি নেয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিমানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড হয়েছে, যা বাজারে বিমানের প্রতি ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও যাত্রীদের আস্থার প্রতিফলন।

মুনাফার নেপথ্যে নতুন ব্যবস্থাপনা ও উন্নত সেবা

বোসরা ইসলাম জানান, দ্রুত লাগেজ সরবরাহ, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা এবং বিমানবন্দর প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, বিমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে অনুসরণ করে প্রশংসনীয় সেফটি রেকর্ড বজায় রেখেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নতুন ব্যবস্থাপনা দক্ষ অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর সম্পদ বণ্টন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দৃঢ়করণের ফলেই এই বছরের রেকর্ড মুনাফা অর্জিত হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: রুট সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল রূপান্তর

বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিমান নতুন জনপ্রিয় গন্তব্যে রুট সম্প্রসারণ, যাত্রীসেবা ও পরিচালনায় ডিজিটাল রূপান্তর এবং কার্গো সেবা শক্তিশালীকরণে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

Tags: bangladesh biman bangladesh airlines profit national airlines record revenue aviation