প্রায় ৮ বছর আগের ঘটনা। দুর্নীতির একটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে কারাবন্দি। সেই কঠিন সময়ে দলের প্রতি এবং নেত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন সহসভাপতি মো. আলিমেল হাকিম মুন্সী শাকিব। তবে সেই চিঠি গন্তব্যে পৌঁছায়নি; কারা কর্তৃপক্ষ সেটি গ্রহণ না করে পুনরায় ফেরত পাঠিয়ে দেয় প্রেরকের ঠিকানায়।
কারা কর্তৃপক্ষের প্রত্যাখ্যান ও ফিরে আসা ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে চিঠিটি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠিয়েছিলেন আলিমেল হাকিম মুন্সী শাকিব। প্রাপক হিসেবে ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল: বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, পুরাতন নাজিমউদ্দিন রোড, ঢাকা। কিন্তু ঢাকা পুরাতন কারা কর্তৃপক্ষ সেদিন চিঠিটি গ্রহণ না করায় সেটি ফেরত আসে। রেজিস্ট্রিযুক্ত চিঠি হওয়ায় ওই বছরের ১ মার্চ সেটি গৌরীপুর ডাক বিভাগের পিয়ন শাকিবের ঠিকানায় পৌঁছে দেন।
মৃত্যুর পর ফেসবুকে স্মৃতিচারণ সাম্প্রতিক সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আলিমেল হাকিম মুন্সী শাকিব সেই ফেরত আসা চিঠিটির ছবি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে গভীর স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করেছেন। চিঠিসহ ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “মা জননী, আপনি চলে গেলেন। আপনার প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলগেটে একটা চিঠি দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম কোনো এক বিকালে অবসরে আপনি পড়বেন আমার মনে কথাগুলো। কিন্তু সেই চিঠি আপনার হাত পর্যন্ত পৌঁছায়নি।” মুহূর্তের মধ্যেই এই আবেগঘন পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চিঠির মূল বক্তব্য ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তারিখে লেখা সেই চিঠিতে ছাত্রদল নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মা জননী’ সম্বোধন করে লেখেন, “আজ আপনি দেশ, জনগণ ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মিথ্যা বানোয়াট মামলায় কারাবন্দি... আমরাও আপনার পাশে আছি থাকব, সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে আপনাকে কারাবন্দি রাখতে পারবে না। মুক্তির অপেক্ষা দেশের তৃণমূল সাধারণ জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ।” চিঠিতে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পূর্ণ উদ্ধারের কথাও স্মরণ করান।
আলিমেল হাকিম মুন্সী শাকিবের মন্তব্য সেদিনের সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বর্তমান গৌরীপুর পৌর বিএনপির সদস্য এবং শিক্ষানবীশ আইনজীবী মুন্সী শাকিব জানান, নেত্রীর সার্বিক খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা যে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে আছেন, সেটা জানানোর জন্যই রেজিস্ট্রি ডাকে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা সরকারের দুঃশাসনের কারণে কারা কর্তৃপক্ষ চিঠিটি গ্রহণ না করায় ফেরত আসে। দেশনেত্রীকে লেখা চিঠিটি এখনো পরম যত্নে আমার সংগ্রহে আছেই।”