বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা ট্রাম্পের শুক্রবার (২ জানুয়ারি, ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি লেখেন, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো এবং তাদের হত্যা করা ইরানের পুরোনো অভ্যাস। যদি তারা আবারও এমন কাজ করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছি।”
অর্থনৈতিক সংকট থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত চরম অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার দরপতন এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত রোববার ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট শুরু করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একাধিক অঞ্চলে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়।
বিক্ষোভে প্রাণহানির খবর ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পশ্চিম ইরানের লোরদেগান ও আজনা শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় কুহদাশত শহরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লোরদেগান ছাড়াও মধ্য ইরানের ইসফাহান প্রদেশে একজন বিক্ষোভকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি কেরমানশাহ, খুজেস্তান ও হামেদান প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের আটকের খবরও পাওয়া গেছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কুহদাশতে তাদের অধিভুক্ত বাসিজ স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হওয়ার দাবি করলেও, মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও বলছে নিহত ব্যক্তি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি এসব প্রাণহানির খবর আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘর্ষ ও মৃত্যুর সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।