স্বর্ণের মূল্যে অসামঞ্জস্যতা সুনামগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী তার হলফনামায় স্ত্রীর মালিকানাধীন ৫ ভরি স্বর্ণের বর্তমান আনুমানিক মূল্য হিসেবে ১ কোটি টাকা উল্লেখ করেছেন। তিনি অর্জনকালীন সময়ে এই ৫ ভরি স্বর্ণের মূল্য দেখিয়েছিলেন ২ লাখ টাকা। বর্তমান বাজারদরের সাথে তুলনা করলে এই মূল্য ১৩ গুণেরও বেশি। নাছির উদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে কৃষিজীবী, যদিও আগে তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ১৪ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানায় ১০ একরসহ মোট ১৩ একর কৃষি জমি রয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীর সম্পদের বিবরণ সুনামগঞ্জ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য প্রার্থীদের হলফনামা থেকেও তাদের সম্পদ ও আয়ের চিত্র পাওয়া যায়।
১. মোহাম্মদ শিশির মনির (জামায়াত) জামায়াত মনোনীত এই প্রার্থী পেশায় একজন আইনজীবী। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৫২ লাখ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় প্রায় ৮৯ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নিজের নামে ৯ লাখ ৫২ হাজার ৪ টাকা নগদ অর্থ, ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মোটরযান এবং ২৫ ভরি স্বর্ণ (উপহার) রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৭ হাজার ৪২০ টাকার অকৃষি জমিসহ মোট সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৭ টাকা, যা এই আসনে প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
২. ঋতেশ রঞ্জন দেব (স্বতন্ত্র) পেশায় কৃষক ঋতেশ রঞ্জন দেব আগে বায়িংহাউসের মার্চেন্ডাইজার ছিলেন। কৃষি থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, টিউশনি থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং নির্ভরশীলদের আয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার ও তার স্ত্রীর নামে মোট ২২ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কৃষি ও অকৃষি জমি এবং ঘর রয়েছে।
৩. তাহির রায়হান চৌধুরী (বিএনপি, যুক্তরাজ্য প্রবাসী) সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পেশায় আইনজীবী। কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭১ টাকা। এর মধ্যে ২০ ভরি স্বর্ণ এবং ১০ লাখ টাকার প্রাইভেট কার রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১১ একর কৃষিজমি এবং ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অকৃষি জমি আছে।
৪. নিরঞ্জন দাস (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি) আইনজীবী পেশা থেকে নিরঞ্জন দাসের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা। তার স্ত্রী/স্বামীর নামে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে।
৫. মো. সাখাওয়াত হোসেন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেনের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত ১০.৫০ একর কৃষি জমি রয়েছে, যার মধ্যে প্রার্থীর অংশ ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
৬. শোয়াইব আহমদ (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ) শিক্ষক শোয়াইব আহমদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৩ ভরি স্বর্ণ। স্থাবর সম্পদের মধ্যে টিনের ঘর ও পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত বাড়ি রয়েছে। তিনি এই আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক, যার সম্পদ আছে ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকার।
পেশা ও অভিজ্ঞতার চিত্র সুনামগঞ্জ-২ আসনের মোট ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন প্রার্থীরই নির্বাচন করার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন— দুইজন কৃষিজীবী, তিনজন আইনজীবী, একজন ব্যবসায়ী এবং একজন শিক্ষক। জামায়াত মনোনীত মোহাম্মদ শিশির মনির এই আসনে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হলেও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনীত শোয়াইব আহমদ সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক।