রিয়াদে সংলাপের আহ্বান
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দক্ষিণাঞ্চলের সব পক্ষকে এই সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট মোকাবিলা করা এবং একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। দীর্ঘ এক দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক প্রভাবের কারণে ইয়েমেনের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে।
গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বাড়ছে বিরোধ
দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের সরকারি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেই বিরোধ আরও বেড়েছে। এর ফলে ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
ইউএই-সমর্থিত দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দক্ষিণ ইয়েমেনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ইয়েমেনের সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বিমান হামলায় প্রাণহানি ও জটিল পরিস্থিতি
সংলাপের উদ্যোগের মধ্যেই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা খবর দিয়েছে যে, শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় দক্ষিণ ইয়েমেনে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল থেকে হুথি বিদ্রোহীদের হটাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট গঠিত হয়েছিল। তবে প্রায় এক দশক পরও হুথিরা ক্ষমতা ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ইয়েমেনে সৌদি ও আমিরাত-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে রিয়াদের সংলাপ শান্তি প্রক্রিয়াকে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।