শীতকালেও পানি অপরিহার্য কেন? শরীরের প্রায় ৯০% অংশই পানি দিয়ে তৈরি। গরমে ঘামের মাধ্যমে পানির চাহিদা বোঝা গেলেও, শীতে ঘাম কম হওয়ায় অনেকে পানির প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করেন। অথচ শীতেও শরীরে পানির গুরুত্ব গরমকালের মতোই বেশি। মনোযোগী এবং কর্মক্ষম থাকার জন্য শীতকালেও পর্যাপ্ত পানি পান অপরিহার্য।
মানসিক সতর্কতা ও পানির ভূমিকা শীতেও আমরা ঘামতে থাকি। এই সময় পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মানসিক জাগ্রততা এবং মনোযোগের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। সামান্য পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হলেও মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং সারাদিন ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। যেমন, দুপুরে হঠাৎ ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হলে শুধু এক গ্লাস পানি পান করলেও কিছুটা সতেজতা ফিরে আসতে পারে।
শীতজ্বর বা সর্দি–কাশিতে পানির গুরুত্ব সর্দি, জ্বর বা অন্যান্য হালকা অসুস্থতায় পানি পান করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হালকা জ্বর থাকলে দেহের পানির চাহিদা বাড়ে। আবার সর্দি বা কাশির সময় শরীরে তৈরি হওয়া মিউকাসকে পাতলা করতে পানি সাহায্য করে, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ হয়। অনেকে বাড়িতে স্টিমার ব্যবহার করেন, যা দেহে সরাসরি পানি না পৌঁছালেও নাক এবং ফুসফুসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।
দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণের উৎস আগে একটি প্রচলিত ধারণা ছিল যে ফল ও সবজি থেকে পাওয়া পানি দৈনিক চাহিদার গণনায় ধরা হয় না। তবে এখন জানা যায়, খাদ্য থেকেও মোট পানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পাওয়া সম্ভব। তাই ফল, সবজি, কফি, চা—এগুলো সবই পানির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সুগারযুক্ত সফট ড্রিংক বা মিষ্টি পানীয়কে স্বাস্থ্যকর পানি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। স্বাস্থ্যকর পানি হলো স্বাভাবিক, খাঁটি পানি। স্বাদের জন্য এতে লেবু, কমলা বা লাইমের একটি ছোট অংশ মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, শীতকালে পানি পান করার গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। যথেষ্ট পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকে, মানসিক শক্তি বজায় থাকে এবং সর্দি-কাশি থেকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। তাই গরম হোক বা শীত, খাঁটি পানি সবসময়ই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।