বিরোধী নেত্রীকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের শনিবার (০৩ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে দেশটির নেতৃত্বে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেবে কি না, সে প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘এখনই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে’। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমানে নরওয়েতে অবস্থানরত মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে সমর্থন দেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে তার প্রশাসন ভাবছে।
মাদুরোর নির্বাচনকে ‘লজ্জাজনক’ বললেন ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নির্বাচন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটির একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আছেন, এটা সবাই জানে। কিন্তু মাদুরোর নির্বাচন ছিল একেবারেই লজ্জাজনক। মাদুরোকে আটক করার ঘটনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এর মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো চাপের কাছে নত হবে না। তিনি আরও বলেন, মাদুরোর আটক হওয়া বুঝিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র আর কাউকে তার ওপর কর্তৃত্ব করতে দেবে না।
ট্রুথ সোশ্যালে অভিযানের দাবি এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সফলভাবে একটি বড় পরিসরের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে এবং এর অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সরকারের তীব্র নিন্দা ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা ভেনেজুয়েলার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানী কারাকাসসহ মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একাধিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে কারাকাস তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে মাদুরো প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই প্রচেষ্টা সফল হবে না।
পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সরকারের ভাষ্য, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামরিক স্থাপনায় হামলার খবর, পেন্টাগনের নীরবতা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার ভেতরে একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সিবিএস-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক স্থাপনাও ছিল। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সব প্রশ্ন হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস।