সিলেটে এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের কাছে মাত্র ৫ রানে পরাজিত হয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। মোহাম্মদ মিঠুনের অপরাজিত ফিফটি (Fifty) সত্ত্বেও মিডল অর্ডারে (Middle Order) প্রয়োজনীয় রানের গতি (Run-Rate) বাড়াতে না পারার খেসারত দিতে হলো ঢাকাকে। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স।
রংপুরের পুঁজি ও মাহমুদউল্লাহর অর্ধশতক
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা ক্যাপিটালসের দুর্দান্ত বোলিং আক্রমণের মুখে শুরুটা কঠিন ছিল রংপুর রাইডার্সের জন্য। তবে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তারা একটি লড়াকু টোটাল (Total) দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। মাহমুদউল্লাহ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস (Innings) খেলেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে রংপুর রাইডার্স ১৫৫ রানের একটি মাঝারি মানের টার্গেট (Target) সেট করে।
রংপুরের ইনিংসের সময় ঢাকা ক্যাপিটালসের বোলাররা বিশেষভাবে ডেথ ওভারগুলোতে (Death Over) দারুণ নিয়ন্ত্রিত পেস (Pace) এবং বৈচিত্র্য দেখান, যার ফলে প্রতিপক্ষ বড় স্কোর গড়তে পারেনি।
মন্থর শুরু, বৃথা মিঠুনের লড়াই
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকা ক্যাপিটালস ভালো শুরু পেলেও, ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে তারা আক্রমণের গিয়ার পরিবর্তন (Change Gear) করতে ব্যর্থ হয়। ওপেনাররা ভালো ভিত্তি তৈরি করে দিলেও, মোহাম্মদ মিঠুন এবং সাইফ হাসানদের ব্যাট থেকে প্রত্যাশিত দ্রুত রান আসেনি। যদিও মিঠুন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে একটি লড়াকু অর্ধশতক (Fifty) তুলে নেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন, কিন্তু তাঁর স্ট্রাইক রেট (Strike Rate) জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
২০ ওভার শেষে ঢাকা ক্যাপিটালস ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানের বেশি করতে পারেনি। দলের পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখছেন মিডল অর্ডারে রানের গতি ধরে রাখতে না পারা এবং বাউন্ডারি (Boundary) মারার ক্ষেত্রে রক্ষণাত্মক টেম্পো (Tempo)।
শেষ ওভারের নাটকীয়তা ও মুস্তাফিজ ম্যাজিক
শেষ ৬ বলে ঢাকা ক্যাপিটালসের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১০ রান। এই পরিস্থিতিতে বল হাতে আসেন রংপুর রাইডার্সের অভিজ্ঞ এবং বিশ্বমানের বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর করা ডেথ ওভারের এই গুরুত্বপূর্ণ ওভারে ঢাকা দলের ব্যাটসম্যানরা কোনো বড় শট খেলতে পারেননি। কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ তাঁর এক্সপেরিয়েন্স (Experience) কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত লাইন ও লেংথে বল করেন।
ফলে, শেষ বলে ৬ রানের প্রয়োজন থাকলেও তা পূরণ করতে পারেনি ঢাকা। মূলত, শেষদিকে রান-আউট বা দ্রুত উইকেট হারানোর ঝুঁকি না নিয়ে মন্থর গতিতে এগিয়ে যাওয়াই তাদের জন্য বুমেরাং (Boomerang) হয়েছে। ৫ রানের এই পরাজয় ঢাকা ক্যাপিটালসের প্লে-অফ (Play-Off) সমীকরণে কঠিন চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।