নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীতে প্রায় ২৩ জন যাত্রী বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে গেলেও অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সবাই। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নোয়াখালী থেকে ভাসানচরগামী ট্রলারটি গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে উল্টে যায়। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
দুর্ঘটনার কারণ ও উদ্ধার অভিযান প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ট্রলারটিতে ২০ জন যাত্রী এবং মাঝি ও তার দুই সহকারীসহ মোট ২৩ জন ছিলেন। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সকালে ছাড়ার কথা থাকলেও দুপুর ২টার দিকে করিমবাজার ঘাট থেকে এটি যাত্রা শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভাসানচরের কাছাকাছি পৌঁছালে ঢেউয়ের তীব্র তোড়ে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং যাত্রী ও মালপত্রসহ পানিতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে ভাসানচর থেকে স্পিডবোট ও আশপাশের ট্রলারের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এতে ট্রলারে থাকা সব যাত্রী ও নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ ও স্থানীয়দের দাবি উদ্ধার হওয়া যাত্রী সুজন অভিযোগ করেন, আগস্ট মাসের ৫ তারিখের পর থেকে ওই রুটে সরকারি 'সি-ট্রাক' (নিরাপদ নৌযান) সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে মাঝেমধ্যেই ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটছে। তিনি অবিলম্বে নিরাপদ সি-ট্রাক পুনরায় চালু না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, যাত্রীরা বাঁচলেও ট্রলারে থাকা লাখ লাখ টাকার মালপত্র পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। নিরাপদ নৌ-পরিবহনের জন্য একটি সরকারি সি-ট্রাক অত্যন্ত জরুরি।
প্রশাসনের বক্তব্য ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে ট্রলারটিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও এনজিও কর্মীসহ মোট ২৩ জন আরোহী ছিলেন। সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কোনো নিখোঁজ নেই। তিনি আরও জানান, ট্রলারে কোনো নারী যাত্রী বা রোহিঙ্গা ছিলেন না। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলার ও মালপত্র উদ্ধারের কাজ এখনো চলছে।