১১৮ শহীদের মরদেহ শনাক্তকরণের উদ্যোগ
বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের (July Mass Uprising) সময় নিহত অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ শনাক্তকরণের অংশ হিসেবে সিআইডি (CID) কর্তৃপক্ষ মোট ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরইমধ্যে নতুন করে আটজন শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে এই মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এই তথ্য জানিয়েছে।
শনাক্ত হওয়া ৮ শহীদ
ফরেনসিক (Forensic) পরীক্ষার মাধ্যমে সদ্য শনাক্ত হওয়া আট শহীদ হলেন:
১. শহীদ ফয়সাল সরকার ২. শহীদ পারভেজ বেপারী ৩. শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২) ৪. শহীদ মাহিম (২৫) ৫. শহীদ সোহেল রানা ৬. শহীদ আসানুল্লাহ ৭. শহীদ কাবিল হোসেন ৮. শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯)
ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষা প্রক্রিয়া
সিআইডি জানায়, রায়েরবাজার কবরস্থানে একটি অস্থায়ী মর্গ (Temporary Morgue) স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সুরতহাল প্রতিবেদন (Inquest Report) প্রস্তুত করা হয় এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত (Post-mortem) পরিচালনা করেন।
এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় সিআইডি-র অত্যাধুনিক ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি (Chemical Laboratory) ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে মোট ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার বিশ্লেষণের মাধ্যমেই এই আটজন অজ্ঞাতপরিচয় শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া (Identification Process) বর্তমানে জোরেশোরে চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে আরও অনেক শহীদের পরিচয় উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।