• রাজনীতি
  • নির্বাচন থেকে ‘অভিমানী’ প্রার্থীদের সরাতে বিএনপির তোড়জোড়, বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি

নির্বাচন থেকে ‘অভিমানী’ প্রার্থীদের সরাতে বিএনপির তোড়জোড়, বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি

মনোনয়ন বঞ্চিত অর্ধশতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী; নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কায় নড়েচড়ে বসেছে দল। জোট শরিকরাও চায় না কোনো বিদ্রোহী থাকুক।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
নির্বাচন থেকে ‘অভিমানী’ প্রার্থীদের সরাতে বিএনপির তোড়জোড়, বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির 'অভিমানী' নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এদেরকে 'বিদ্রোহী' আখ্যা দিয়ে দলটি উদ্বেগে আছে, কারণ বিশ্লেষকদের মতে, এদের উপস্থিতি ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, দলের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অমান্য করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিদ্রোহীদের তালিকা সংগ্রহ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা

বিএনপি ইতোমধ্যে সারা দেশে দলের স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করেছে। সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোট এবং ধানের শীষের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় এরই মধ্যে ৯ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যান্য আসনেও যারা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দল। তবে প্রথমে বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করা হবে। এ জন্য সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও কথা বলতে পারেন। আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বিএনপি, তারপরও মাঠে থাকলে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

শরিকদের উদ্বেগ ও জোটের সমঝোতা

স্বতন্ত্র বা অন্য কোনো ব্যানারেও বিএনপির নেতারা নির্বাচনের মাঠে থাকুক, তা চান না দলটির সঙ্গে আসন সমঝোতা হওয়া যুগপৎ জোটের প্রার্থীরা। তারা বলছেন, জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক শক্তির কারণে বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তা শরিকদের ফল বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। শরিকদের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলো নিজেদের প্রতীকে এবং অনিবন্ধিত শরিকরা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে। এ লক্ষ্যে শরিক দলের এক নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক চান, সমঝোতা হওয়া আসনে যেন বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকেন।

নেতাদের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতারা বলছেন, তারা জনগণের চাওয়াকে মূল্যায়ন করতেই নির্বাচন করছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলেও দলের নীতি-আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবেন না। বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, যখন একজন রাজনীতিবিদ মানুষের কাছ থেকে ফল পাওয়া শুরু করেন, তখন কোনো দল বা গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করল কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু জানান, দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত জানা সত্ত্বেও মানুষের সেন্টিমেন্ট অনুযায়ী তিনি মাঠে আছেন। বিজয়ী হলে তিনি বিএনপির কাছেই চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর আরেক সদস্য আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

বিএনপির হাই-কমান্ডের বক্তব্য

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দল অপেক্ষা করবে এবং একেবারে কঠিন সিদ্ধান্ত খুব সহজে নেওয়া হবে না। আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, তারা জোট শরিকদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দিয়েছেন, যদিও ওই আসনগুলো বিএনপির জেতার মতো। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags: bangladesh election tarique rahman bnp political news organizational action rebel candidates alliance politics