• বিনোদন
  • খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন: ৮ বছর ধরে মাছ-মাংস থেকে দূরে রিতেশ-জেনেলিয়া, পাতে পড়ে না দুধ-ডিমও!

খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন: ৮ বছর ধরে মাছ-মাংস থেকে দূরে রিতেশ-জেনেলিয়া, পাতে পড়ে না দুধ-ডিমও!

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
খাদ্যাভ্যাসে আমূল পরিবর্তন: ৮ বছর ধরে মাছ-মাংস থেকে দূরে রিতেশ-জেনেলিয়া, পাতে পড়ে না দুধ-ডিমও!

সুস্থ জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় এক অনন্য যাত্রা; সোহা আলি খানের পডকাস্টে জীবনের এক গোপন ও অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় ভাগ করে নিলেন জেনেলিয়া ডিসুজা।

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং কিউট কাপল হিসেবে পরিচিত রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডিসুজা। রুপালি পর্দার রোমান্স থেকে বাস্তব জীবনের রসায়ন—সবক্ষেত্রেই তারা ভক্তদের কাছে আইকন। তবে সম্প্রতি তাদের জীবনযাপনের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যা ভক্তদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে। দীর্ঘ আট বছর ধরে এই তারকা দম্পতি মাছ, মাংস তো দূরস্থান, এমনকি দুধ বা ডিমের মতো কোনো প্রাণিজ খাবারও (Animal Products) স্পর্শ করছেন না।

সম্প্রতি সোহা আলি খানের একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে (Podcast) অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে জেনেলিয়া তার এই আমূল পরিবর্তনের পেছনের গল্প ও দীর্ঘ যাত্রার কথা বিস্তারিত শেয়ার করেছেন।

নিছক ট্রেন্ড নয়, বরং সুস্থতার তাগিদে এক কঠিন সিদ্ধান্ত

জেনেলিয়া জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি মাংস খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকেই মনে করেন সেলিব্রিটিরা কোনো ‘ট্রেন্ড’ বা হুজুগে পড়ে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেন, কিন্তু জেনেলিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি বলেন, “শুরুতে আমার এই সিদ্ধান্তটি ছিল কিছুটা ব্যক্তিগত ও স্বার্থপর। আমি স্রেফ দেখতে চেয়েছিলাম এই ধরনের জীবনযাপন (Lifestyle) আমার স্বাস্থ্যের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে। কোনো আধ্যাত্মিক কারণ নয়, বরং নিজের শরীরকে আরও বেশি কর্মক্ষম রাখাই ছিল প্রাথমিক লক্ষ্য।”

আমিষাশী পরিবার থেকে ‘প্ল্যান্ট-বেজড ডায়েট’-এর পথে যাত্রা

জেনেলিয়া বড় হয়েছেন একটি কট্টর আমিষাশী (Non-vegetarian) পরিবারে। ফলে নিরামিষ খাবারের বৈচিত্র্য সম্পর্কে তার ধারণা ছিল অত্যন্ত সীমিত। পডকাস্টে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “আমাদের পরিবারে নিরামিষ খাবার মানেই ছিল শুধু আলু, মটরশুঁটি আর পনির। এর বাইরে যে একটা বিশাল স্বাদ ও পুষ্টির জগৎ থাকতে পারে, তা আগে কল্পনাও করতে পারিনি।”

ধীরে ধীরে মাংস বর্জন করার পর জেনেলিয়া লক্ষ্য করেন, তার শরীরের পরিপাক ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘লাইট’ বা হালকা অনুভব করছেন তিনি। এই শারীরিক প্রশান্তিই তাকে নিয়মানুবর্তিতার (Discipline) পথে এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জোগায়।

রিতেশের অনুপ্রেরণা ও লকডাউনের সেই চূড়ান্ত পরিবর্তন

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় জেনেলিয়ার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন স্বামী রিতেশ দেশমুখ। রিতেশ ২০১৬ সাল থেকেই মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। স্ত্রীর কথায়, “রিতেশের মনে হয়েছিল আমিষ খাবার আর তার শরীরের মেটাবলিজমের (Metabolism) সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না।”

২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি জেনেলিয়া মাংস ছাড়লেও তারা দুজনেই সে সময় ডিম ও দুগ্ধজাত পণ্য (Dairy Products) গ্রহণ করতেন। তবে জীবনের বড় মোড়টি আসে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময়। বিশ্বব্যাপী যখন লকডাউন (Lockdown) চলছিল, তখন তারা দুজনেই সিদ্ধান্ত নেন পুরোপুরি ‘ভেগান’ (Vegan) হয়ে যাওয়ার। সেই থেকে আজ অবধি মাছ-মাংসের পাশাপাশি দুধ, পনির ও ডিমকেও তারা তাদের খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিয়েছেন।

মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি

এই জীবনমুখী পরিবর্তন কেবল শারীরিক সুস্থতাই নয়, বরং তাদের মানসিক স্থিতিশীলতাও প্রদান করেছে বলে জানান জেনেলিয়া। বর্তমানের এই ‘প্ল্যান্ট-বেজড ডায়েট’ (Plant-based Diet) তাদের জীবনকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও জেনেলিয়া এখন ব্যস্ত তার দুই ছেলেকে সামলাতে এবং নিজেদের এই স্বাস্থ্যকর জীবন দর্শনকে পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে।

বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় থেকেও এমন সংযত ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। রিতেশ-জেনেলিয়ার এই ৮ বছরের যাত্রা প্রমাণ করে যে, দৃঢ় ইচ্ছা শক্তি থাকলে অভ্যাসের আমূল পরিবর্তন সম্ভব।

Tags: health benefits celebrity fitness bollywood couple animal welfare genelia d'souza ritesh deshmukh vegan lifestyle plant based lifestyle change diet habits