• জাতীয়
  • নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের হিসেবে গরমিল? প্রার্থীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন দুদক চেয়ারম্যান

নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের হিসেবে গরমিল? প্রার্থীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন দুদক চেয়ারম্যান

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের হিসেবে গরমিল? প্রার্থীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন দুদক চেয়ারম্যান

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব এবার দুদকের স্ক্যানারের নিচে; কোনো প্রকার অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি আব্দুল মোমেনের।

নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে দুদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বা Affidavit নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সম্পদের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করবে কমিশন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে 'রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন' (র‍্যাক)-এর নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

অসঙ্গতি পেলেই শুরু হবে আইনি প্রক্রিয়া

দুদক চেয়ারম্যান জানান, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং Accountability নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবার প্রার্থীদের দেওয়া তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। তিনি বলেন, “প্রার্থীরা তাদের হলফনামায় যে সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন, তার সাথে বাস্তব সম্পদের কোনো গরমিল বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা দেশের নাগরিকদের সম্পদের সঠিক তথ্য জানতে চাই এবং যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নির্বাচন কমিশনের সাথে সমন্বিত পদক্ষেপ

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের (EC) সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে দুদক। আব্দুল মোমেন উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনকে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন কোনো প্রার্থীর সম্পদে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়লে তা দ্রুত দুদককে অবহিত করা হয়। এই Joint Collaboration-এর মাধ্যমে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাওয়া দুর্নীতিবাজদের পথ রুদ্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।

নতুন গেজেট ও আইনি জটিলতা নিরসন

গত ২৩ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার 'দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪' সংশোধন করে একটি নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে। এই সংশোধনী নিয়ে জনমনে বা সুশীল সমাজে কোনো সংশয় থাকলে তা দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “নতুন গেজেটের কারণে যদি কোনোভাবে দুর্নীতিবাজরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, তবে আমরা তা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করব। আইনের কোনো লুপহোল (Loophole) ব্যবহার করে যেন কেউ পার না পায়, সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে।”

সুশাসন ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন

মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, গণমাধ্যম ও দুদকের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীরা যাতে দেশ পরিচালনার সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যে প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে হলফনামায় ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Tags: national election acc election commission bangladesh politics transparency accountability legal amendment candidate affidavit asset declaration corruption control