যশোরে ফের প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এমন নৃশংস ঘটনায় গোটা জেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ ঘটনায় মণিরামপুর উপজেলায় রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪৫) নামের এক বরফকল মালিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মোটরসাইকেলে এসে এলোপাথাড়ি গুলি সোমবার সন্ধ্যায় মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কপালিয়া বাজারে রানার একটি মাছের বরফ তৈরির কারখানা (Ice Factory) রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি যখন বরফকলে অবস্থান করছিলেন, তখনই মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসে। বরফকলের কাছে একটি গলির মুখে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা রানাকে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিচিতি ও পূর্ববর্তী যোগসূত্র নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী স্থানীয়ভাবে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও, তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন। স্থানীয় কিছু সূত্র এবং পুলিশ জানায়, তার নামে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা ছিল এবং এলাকায় তিনি একসময়ের 'চরমপন্থী নেতা' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে নিহতের পরিবার এবং পত্রিকাটি জানিয়েছে, তিনি মামলাগুলো থেকে খালাস পেয়েছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, পুরনো কোনো শত্রুতা বা চরমপন্থী দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
দুই দিনে দ্বিতীয় খুন, তদন্তে পুলিশ এই ঘটনার খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজিউল্লাহ খান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ একাধিক অভিযান শুরু করেছে। উল্লেখ্য, মাত্র দুদিন আগেই যশোর শহরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকেও একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের কারণে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।