• দেশজুড়ে
  • হত্যা মামলার আসামিকে রক্ত দিয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন এএসআই রাশেদ: সহকর্মীদের প্রশংসা

হত্যা মামলার আসামিকে রক্ত দিয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন এএসআই রাশেদ: সহকর্মীদের প্রশংসা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হত্যা মামলার আসামি রক্ত সংকটে পড়লে তাঁর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত এএসআই রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। তাঁর এই মানবিক কাজে প্রশংসা করছেন সহকর্মীরা।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
হত্যা মামলার আসামিকে রক্ত দিয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন এএসআই রাশেদ: সহকর্মীদের প্রশংসা

হত্যা মামলার আসামি জয়নাল আবেদীন রক্ত সংকটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিজের ও পজেটিভ রক্ত দিয়ে আসামির জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এলেন পাহাড়তলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগে পুলিশ বাহিনীতে নজির সৃষ্টি হয়েছে এবং সহকর্মীরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

রক্ত সংকট ও এএসআই রাশেদের মানবিক উদ্যোগ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন হত্যা মামলার আসামি জয়নাল আবেদীন (২৫)। শনিবার (০৪ জানুয়ারি) প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং তিনি রক্ত সংকটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষয়টি পুলিশকে জানালে সেখানে পাহারায় থাকা পাহাড়তলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল ইসলাম রাশেদ কোনো উপায় না দেখে নিজেই (O পজেটিভ) রক্ত দেন। একইসঙ্গে তিনি ব্লাড ব্যাংক থেকে আরও এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে জয়নাল আবেদীনের শরীরে প্রবেশ করান।

সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের বক্তব্য

এএসআই রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এই উদারতা তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সহকর্মীরা মন্তব্য করেছেন যে, তাঁর এই মহৎ কাজটি পুলিশ বাহিনীতে একটি নজির হয়ে থাকবে। এএসআই রাশেদ বলেন, “সেবাই পুলিশের ধর্ম। হত্যা মামলার আসামি রক্তশূন্যতায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ার সময় বিবেক ও মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে আমি নিজেই এক ব্যাগ রক্তদান করি। যা মানবিকতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসাইন বলেন, “নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো কাজ। আমি নিজেও আমাদের ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দিয়ে থাকি। পাশাপাশি আমাদের পুলিশ সদস্যদের রক্ত দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করি। এএসআই রাশেদ রক্ত দিয়ে মহতি কাজ করেছেন।”

ঘটনার সূত্রপাত ও মামলার বিবরণ

জানা যায়, জয়নাল আবেদীন গত বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) রাতে পাহাড়তলী থানাধীন একটি ভাড়াঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিনি গার্মেন্টস কর্মী ফাতেমা আক্তার বৈশাখী (২৯) ও তাঁর চাচা মিজানুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করেন। প্রতিবেশীরা তাঁকে আটক করতে গেলে তিনি নিজেকেও ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

নিহত ফাতেমা আক্তার বৈশাখী ছিলেন জয়নাল আবেদীনের সাবেক স্ত্রী। ছয় মাস আগে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। বিবাহবিচ্ছেদের পর বৈশাখী সম্প্রতি আবার বিয়ে করলে জয়নাল ক্ষিপ্ত হয়ে বৈশাখীর বাসায় ঢুকে তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। বৈশাখীর চাচা মিজানুর রহমান বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করেন জয়নাল। গুরুতর আহত অবস্থায় বৈশাখীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বৈশাখীর বাবা মোহাম্মদ আবুল বাশার পাহাড়তলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জয়নাল আবেদীন তাঁর মেয়ের বান্ধবী শাজেদা আক্তারের সাথে গোপনে বিয়ে করার পর থেকে বৈশাখীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। সেই অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই বৈশাখী বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। ডিভোর্সের পর শাজেদা বৈশাখীকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন।

পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার জানান, সাবেক স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের পর লোকজন জয়নালকে ধরতে এলে তিনি নিজের পেট, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আহত চাচা ও জয়নাল দু'জনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

Tags: murder case chittagong asi rashed police humanity blood donation pahartali thana