• দেশজুড়ে
  • পোস্টাল ব্যালটে ভোট: শেষ হলো নিবন্ধনের সময়সীমা, ভোটাধিকার প্রয়োগে ১৫ লাখের বেশি নাগরিকের সাড়া

পোস্টাল ব্যালটে ভোট: শেষ হলো নিবন্ধনের সময়সীমা, ভোটাধিকার প্রয়োগে ১৫ লাখের বেশি নাগরিকের সাড়া

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পোস্টাল ব্যালটে ভোট: শেষ হলো নিবন্ধনের সময়সীমা, ভোটাধিকার প্রয়োগে ১৫ লাখের বেশি নাগরিকের সাড়া

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী দেশের ভেতরে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রাধান্য, প্রবাসীদের মধ্যে শীর্ষে সৌদি আরব; ফিরতি ব্যালট পাঠানোর চূড়ান্ত সময়সীমা ১২ ফেব্রুয়ারি।

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের (Postal Ballot) মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (EC) ঘোষিত সময় অনুযায়ী, সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টায় এই আবেদন প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থায় পোস্টাল ব্যালটের এই সুযোগ গ্রহণে দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

নিবন্ধনের খতিয়ান: দেশে ও প্রবাসে বিপুল সাড়া

নির্বাচন কমিশনের সচিবালয় সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য সর্বমোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার সফলভাবে নিবন্ধন (Registration) সম্পন্ন করেছেন। আধুনিক ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে পোস্টাল ব্যালট একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ ভোটার: সম্মুখসারিতে সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

দেশের ভেতর থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন ভোটার। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই তালিকায় বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। মূলত নির্বাচনী দায়িত্ব পালন বা কর্মস্থলের দূরত্বের কারণে তারা এই বিশেষ সুযোগ গ্রহণ করছেন।

এছাড়া সরাসরি নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত (Election Duty) ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪২ জন এবং আনসার ও ভিডিপির ১০ হাজার ১০ জন সদস্য এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার কারাগার থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ৬ হাজার ২৮৩ জন অন্তরীণ নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন, যা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অনন্য দৃষ্টান্ত।

প্রবাসীদের রেকর্ড অংশগ্রহণ: শীর্ষে সৌদি আরব

এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বের ১২৩টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে, যার সংখ্যা ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬। প্রবাসী শ্রমিক ও পেশাজীবীরা বিদেশের মাটিতে থেকেও জাতীয় নির্বাচনে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাওয়ায় এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভোটের সময়সূচি ও পরবর্তী ধাপ

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ (Symbol Allocation) সম্পন্ন হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর মুহূর্ত থেকেই নিবন্ধিত ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার পর ফিরতি ডাক (Return Mail) পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে পরদিন থেকে।

কমিশনের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ভোটারদের পূরণকৃত ব্যালট পেপার অবশ্যই ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার (Returning Officer) দপ্তরে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার পর পৌঁছানো কোনো ব্যালট পেপার ভোট গণনায় (Counting) অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, পোস্টাল ব্যালটের এই ডিজিটাল ও অ্যানালগ পদ্ধতির সমন্বয় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে এটি নির্বাচন কমিশনের একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tags: election commission saudi arabia civil service postal ballot parliamentary election returning officer voter registration electoral process expatriate vote bangladesh polls